কলকাতার পর এবার হাওড়ার বহুতলে ভয়াবহ আগুন, ঝলসে মৃত্যু এক বৃদ্ধার, আহত একাধিক
ভবনের ভেতরে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীরা। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণে এই আগুন লেগেছে, তা খতিয়ে দেখতে দমকল ও পুলিশ যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।
হাওড়ার আন্দুলের মৌড়ি এলাকার একটি বহুতল ভবনে আচমকাই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের (Howrah Fire) ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের চতুর্থ তলা থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেরোতে দেখে দ্রুত ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অগ্নিকাণ্ডের সময় ফ্ল্যাটের ভেতরে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা আটকে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং দমকলের তিনটি ইঞ্জিন।
অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা দেখে বহুতল ও আশপাশের এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ ও দমকল বাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ল্যাডার ও আধুনিক সরঞ্জামের সাহায্যে আটকে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনার কাজ চালানো হয়। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধার (৭২)। আর ইতিমধ্যেই ৮ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন দমকল কর্মীরা।
ভবনের ভেতরে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকারীরা। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণে এই আগুন লেগেছে, তা খতিয়ে দেখতে দমকল ও পুলিশ যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।
সম্প্রতি কলকাতার নিউ মার্কেটের হোটেলে বিধ্বংসী আগুন লাগে এবং সেই ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যুর কথা জানা গেলেও, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র সামনে এনেছে। সূত্রের খবর, মৃতদের প্রত্যেকের শরীরে মারাত্মক পোড়ার ক্ষতচিহ্ন মিলেছে। যদিও তাঁরা কেউই সরাসরি আগুনের লেলিয়ান শিখায় দগ্ধ হননি।
পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের (New Market Hotel Fire) পর ঘরগুলিতে বিষাক্ত ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র ধোঁয়া ও আতঙ্কের জেরে একপর্যায়ে আবাসিকরা সকলেই অচৈতন্য ও অসাড় হয়ে পড়েন। সেই সময় দমকল পৌঁছনোর আগেই বহুতল জুড়ে আগুনের ভয়াবহ উত্তাপ ছড়াতে থাকে। সেই অতিরিক্ত তাপে অচেতন অবস্থায় থাকা আবাসিকদের ত্বক ও শরীরের অংশ পুড়তে শুরু করে। যেহেতু তাঁরা মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে (‘পেরি মর্টাম’ অবস্থা) সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ছিলেন, তাই শারীরিক যন্ত্রণা অনুভব করা কিংবা সাহায্য চেয়ে আর্তনাদ করার মতো কোনও সুযোগ তাঁদের ছিল না।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)