'জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো!' SIR বিতর্কের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবিতে সরব সিজেপি
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিবাদ ও এসআইআর বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশন সংস্কারের দাবিতে সরব হল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। দিল্লিতে জরুরি সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দিলেন অভিজিৎ দিপকে।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এবার সরাসরি কমিশন সংস্কারের (Election Commission Reforms) দাবিতে সরব হল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke) সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা এবং ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্কুল, বেকারত্ব, পরিকাঠামোর মতো অন্যান্য ইস্যুতে আন্দোলন করে বিশেষ লাভ নেই। তাঁর বার্তা, 'ইলেকশন কমিশন ঠিক করো! গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক কাল দিল্লিতে। জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো।'
বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত কর্মসূচিও বাতিল করেছে সিজেপি। দুপুরে দিল্লিতে সংগঠনের নেতৃত্ব সাংবাদিক বৈঠক করবে। ‘ভারতের গণতন্ত্রের অপহরণ’—এই বিষয়কে সামনে রেখেই ওই সাংবাদিক বৈঠক বলে জানিয়েছে সংস্থা।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন মানুষের ভোটাধিকার (Right to Vote) কেড়ে নিচ্ছে। স্কুল পরিকাঠামো, আদিবাসী শিক্ষা, বেকারত্ব কিংবা পরীক্ষায় অনিয়মের মতো বিষয় নিয়ে যতই আন্দোলন হোক, মানুষ যদি ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সুযোগ না পান, তা হলে সেই আন্দোলনের প্রভাব সীমিত হয়ে যাবে। তাঁদের বক্তব্যে নির্বাচনকে পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবেই তুলে ধরা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনের পরই সিজেপির এই অবস্থান সামনে এসেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, বাদ দেওয়া, পুনর্বহাল এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চলাকালীন ভোটার নথিভুক্তির পদ্ধতি নিয়েও তাঁদের আপত্তির কথা প্রতিবেদনে উঠে আসে।
এই বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বহু সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে লিখিত মতামত, পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। কমিশনের দাবি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে এবং এসআইআর-সহ সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলিও তিন কমিশনারের অনুমোদনেই হয়েছে।
অন্যদিকে, এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের একাংশ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। এই পরিস্থিতিতেই অভিজিৎ দিপকের সংগঠন নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম এবং ভোটাধিকার সুরক্ষাকে নিজেদের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রে আনার কথা জানিয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)