দুই দলের একই প্রতীক কীভাবে? ‘খাম’ বিতর্কে নওশাদদের মামলায় কমিশনের রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দলীয় নাম ও ঘাসফুল প্রতীক ফ্রিজ বা সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কালীঘাট ভিত্তিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে (ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস) ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করে। এর বিরুদ্ধে সরব হয়েই তড়িঘড়ি আদালতের শরণাপন্ন হয় আইএসএফ নেতৃত্ব।
আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের (Assembly Bypoll) মুখে প্রচারপর্বের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে ডামাডোল অব্যাহত। একুশের বিধানসভা নির্বাচন থেকে যে ‘খাম’ প্রতীক নিয়ে লড়ে আসছে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF), সেই একই প্রতীক কীভাবে নবগঠিত বা অন্য রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ করা হল - তা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিষয়ে কমিশনের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছে হাইকোর্ট।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দলীয় নাম ও ঘাসফুল প্রতীক ফ্রিজ বা সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার পর সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কালীঘাট ভিত্তিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে (ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস) ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করে। এর বিরুদ্ধে সরব হয়েই তড়িঘড়ি আদালতের শরণাপন্ন হয় আইএসএফ নেতৃত্ব।
আইএসএফ-এর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য শুনানির শুরুতেই কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি আদালতে জানান, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে প্রতি নির্বাচনেই আইএসএফ নির্বাচনী ক্ষেত্রগুলিতে ‘খাম’ প্রতীক ব্যবহার করে আসছে, যা কমিশনই তাদের বরাদ্দ করেছিল। তাঁর অভিযোগ, "যে ‘খাম’ প্রতীকটি এতদিন ধরে একটি নিবন্ধিত দল হিসেবে আইএসএফ ব্যবহার করে আসছে, সেটি কীভাবে হঠাৎ অন্য একটি অননুমোদিত রাজনৈতিক দলকে দিয়ে দেওয়া হল? এর ফলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।"
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সরাসরি নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অমৃতা পাণ্ডের কাছে জানতে চান, “একই প্রতীক কীভাবে দুটি আলাদা রাজনৈতিক দলকে ব্যবহার করতে দেওয়া যেতে পারে? এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কোথায় থাকে?” জবাবে কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, ‘খাম’ কোনও একটি নির্দিষ্ট দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক (Reserved Symbol) নয়, এটি একটি ‘ফ্রি সিম্বল’ বা মুক্ত প্রতীক। ফলে নিয়ম অনুযায়ী কমিশন এই প্রতীক যে কোনও নিবন্ধিত দলকে বরাদ্দ করার এক্তিয়ার রাখে।
কমিশনের এই সাফাই শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “এটা কীভাবে সম্ভব? যে প্রতীকটি এতদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট দল ব্যবহার করে আসছে, তা অন্য কাউকে দিয়ে দিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়াটাই তো স্বাভাবিক!” এরপরই বিচারপতি জানান, কমিশনকে হাইকোর্টে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে যে কীভাবে একই প্রতীক নিয়ে দুটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং এই জট ছাড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)