নন্দীগ্রাম-রেজিনগর বাকি রেখে কেন তড়িঘড়ি রাজ্যসভার ভোট? বাদল অধিবেশনের আগে কোন অঙ্ক কষা চলছে?
বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) শোচনীয় হারের পর তৃণমূলে (TMC) ভাঙন-ডামাডোলের শেষ নেই। ঘাসফুল শিবিরের এই নড়বড়ে পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে শূন্য হওয়া রাজ্যসভার (Rajya Sabha) তিনটি আসনে উপনির্বাচনের (By Election) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।
বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) শোচনীয় হারের পর তৃণমূলে (TMC) ভাঙন-ডামাডোলের শেষ নেই। ঘাসফুল শিবিরের এই নড়বড়ে পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে শূন্য হওয়া রাজ্যসভার (Rajya Sabha) তিনটি আসনে উপনির্বাচনের (By Election) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। আগামী ২৪ জুলাই এই তিন আসনে ভোটগ্রহণ হবে।
তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, রেজিনগর (Rejinagar) এবং নন্দীগ্রামের (Nandigram) মতো দু'টি বিধানসভা আসন বেশ কিছুদিন আগে থেকে খালি থাকা সত্ত্বেও, কেন সেগুলির উপনির্বাচন না করে তুলনামূলকভাবে পরে খালি হওয়া রাজ্যসভার আসনগুলিতে তড়িঘড়ি ভোট সারতে চাইছে কমিশন? এর নেপথ্যে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের বহুপ্রতীক্ষিত বাদল অধিবেশন। সূত্রের খবর, এই অধিবেশনেই কেন্দ্র সরকার বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় বিল পেশ করতে চলেছে। যার মধ্যে রয়েছে:
- সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন
- মহিলা সংরক্ষণ বিল
সংসদের উচ্চকক্ষে (রাজ্যসভা) শাসক শিবিরের একক ও নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় গত অধিবেশনে বেশ কিছু ক্ষেত্রে সরকারকে পিছু হটতে হয়েছিল এবং কেন্দ্রের মুখ পুড়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে বিজেপি নেতৃত্ব। ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়ে রাজ্যসভায় নিজেদের অবস্থান অনেকটাই মজুত করেছে গেরুয়া শিবির। এবার বাংলার এই তিনটি আসনও ঝুলিতে পুরে নিতে পারলে দিল্লির উচ্চকক্ষে বিল পাসের পথ অনেকটাই মসৃণ হবে।
রাজ্য বিধানসভার বর্তমান যা রাজনৈতিক সমীকরণ, তাতে তৃণমূলের পরিষদীয় দল ছত্রখান। ‘কালীঘাট শিবির’ অর্থাৎ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন চরম ভগ্নদশার সম্মুখীন। এই পরিস্থিতিতে বিধানসভার ভোট অঙ্কের নিরিখে রাজ্যসভার তিনটি আসনেই বিজেপির জয়লাভের সম্ভাবনা একপ্রকার নিশ্চিত। ফলে, এই ভোটের মাধ্যমে সংসদের উচ্চকক্ষে এক ধাক্কায় তিনজন নতুন সাংসদ পেতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। আর সেই কারণেই তড়িঘড়ি এই নির্বাচন আগে সেরে ফেলার তোড়জোড় চলছে।
তৃণমূলে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠার পর রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে প্রথম ইস্তফা দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়। গত ৮ জুন তাঁর পদত্যাগের পর থেকেই আসনটি খালি ছিল। এরপর ১০ জুন সুস্মিতা দেব এবং ১১ জুন প্রকাশচিক বরাইকও সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে দল ছাড়েন।
দল ছাড়ার পরেই প্রকাশচিকের মুখে শোনা গিয়েছিল রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা। অন্যদিকে, সুস্মিতা দেব অসমে গিয়ে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এমনকি, লোকসভায় তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে সুখেন্দুশেখর রায়কেও এক টেবিলে আলোচনা করতে দেখা গিয়েছে।
উপনির্বাচনের পুঙ্খানুপুঙ্খ নির্ঘণ্ট
সোমবার কমিশনের তরফে যে সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে,
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন: ১৪ জুলাই (মঙ্গলবার)
মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনি বা যাচাই: ১৫ জুলাই (বুধবার)
মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন: ১৭ জুলাই (শুক্রবার)
ভোটগ্রহণের তারিখ ও সময়: ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত।
ভোট গণনা: ২৪ জুলাই বিকেল ৫টা থেকেই শুরু হবে গণনা প্রক্রিয়া।
প্রক্রিয়া শেষের সময়সীমা: আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে সমগ্র উপনির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)