পাকিস্তান ক্রিকেটে ফের গড়াপেটার কালো ছায়া! লর্ডস টেস্ট নিয়ে তদন্তের নির্দেশ পিসিবির

লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে হার। তারপরেই পাক দলে চরম ডামাডোল। ৭ ক্রিকেটারকে ঘাড়ধাক্কার পর এবার শৃঙ্খলারক্ষায় অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিল পিসিবি। বাজেয়াপ্ত মোবাইল।

Sep 07, 2026 - 19:27
0 0
পাকিস্তান ক্রিকেটে ফের গড়াপেটার কালো ছায়া! লর্ডস টেস্ট নিয়ে তদন্তের নির্দেশ পিসিবির

ইংল্যান্ডের মাটিতে ফের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া!

এমনিতে লর্ডস টেস্টে বিপর্যয়ের পরেই পাকিস্তান শিবিরে চূড়ান্ত ডামাডোল। দলের সাত জন ক্রিকেটারকে ঘাড়ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। ছাঁটাই হয়েছেন দুই কোচ। আর এবার সরাসরি শৃঙ্খলারক্ষায় অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিল পিসিবি (Pakistan Cricket Board)। এক দশক আগের লর্ডস কেলেঙ্কারির স্মৃতি উসকে ফের কাঠগড়ায় পাক ক্রিকেট।

তদন্তের মুখে পাক দল

সোমবার পিসিবির মুখপাত্র আমির মীর এই অভ্যন্তরীণ তদন্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দলে শৃঙ্খলাভঙ্গ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই কড়া পদক্ষেপ। মীরের কথায়, 'শৃঙ্খলা এবং আচরণ সংক্রান্ত মিডিয়া রিপোর্টের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। পিসিবির নিজস্ব নিয়ম মেনেই গোটা প্রক্রিয়ার কাজ চলবে।' 

ঠিক কোন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এই তদন্ত, তা খোলসা করেনি বোর্ড। তবে ঘটনাপ্রবাহই প্রমাণ, ড্রেসিংরুমের অন্দরে বড়সড় কিছু ঘটে গিয়েছে!

কাঠগড়ায় ইমামের চোট ও ছাঁটাই পর্ব

প্রথম দুই টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে কার্যত পর্যুদস্ত পাকিস্তান। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রান এবং লর্ডসে ১৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হার। এরপরই নেমে আসে কোপ (England vs Pakistan)। ছাঁটাই হেডকোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুল। মহম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সলমন আলি আঘা, আলি উসমান, খুররম শাহজাদ, আমের জামাল এবং মহম্মদ আওয়াইস জাফরের মতো সাত জন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানো হয়।

তবে এই রদবদল শুধু পারফরম্যান্সের কারণে নয়। পিসিবির হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর আকিব জাভেদ সরাসরি তোপ দেগেছেন ইমাম-উল-হকের দিকে। লর্ডসে পেশির চোটের কারণে ব্যাট করেননি ইমাম। জাভেদের সন্দেহ, চোটের অজুহাতে ইচ্ছাকৃতভাবে মাঠে নামেননি এই ওপেনার। তিনি বলেন, 'ইমামের চোট একটা বড় প্রশ্নচিহ্ন। চরম হতাশাজনক। আমি বলছি না ও চোটের ভান করেছে। কিন্তু সামান্য পেশিতে টান লাগলে কেউ একেবারে ব্যাট করতে পারবে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না।'

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ভূত ও মোবাইল বাজেয়াপ্ত

পাক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রদবদলের নেপথ্যে রয়েছে ক্রিকেটের বাইরের অন্য কোনও বড় কারণ। একাধিক খেলোয়াড়ের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (Pakistan Cricket Team)। তৃতীয় টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো বোর্ডের হেফাজতেই থাকবে।

কেন এই পদক্ষেপ? তা নিয়ে মুখে কুলুপ কর্তাদের। ২০১০ সালে এই লর্ডসের মাঠেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে নির্বাসিত হন সলমন বাট, মহম্মদ আসিফ এবং মহম্মদ আমির। বুকির কাছ থেকে টাকা নিয়ে ইচ্ছেকৃত নো-বল করার দায়ে জেলও খাটতে হয় তাঁদের। এবারও কি সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি? গুঞ্জন তুঙ্গে।

নতুন মুখ ও গুজবে কান না দেওয়ার আর্জি

'বিতাড়িত' সাত জন খেলোয়াড়ের বদলে দলে নেওয়া হয়েছে সাত আনকোরা মুখকে। সায়িম আয়ুব এবং আবদুল্লা ফজল বাদে বাকি পাঁচ জন এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেননি। টিমে এসেছেন রাজাউল্লা খান, মহম্মদ ইমরান, আরাফাত মিনহাস, সাদ বেগ এবং মহম্মদ ইমরান জুনিয়র।

এতকিছুর মধ্যে পিসিবির তরফে ম্যাচ ফিক্সিং (Match Fixing) নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি। বরং, একটি বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, 'এই মুহূর্তে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে নানা জল্পনা ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উৎস থেকে আসা এমন গুজবে কান দেওয়া উচিত নয়।' তদন্ত চলাকালীন আর কোনও মন্তব্য করতে নারাজ বোর্ড কর্তারা। তবে সিরিজের মাঝপথে এমন ডামাডোল গোটা পরিস্থিতিকে রীতিমতো জটিল করে তুলেছে (Cricket News)। বাইশ গজের লড়াইয়ের চেয়ে এখন মাঠের বাইরের এই বিতর্কই পাকিস্তান ক্রিকেটের মূল চর্চার বিষয়।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User