বাংলায় সরকার বদলাতেই বড় বিনিয়োগ! নিউ টাউনে ১০০০ বেডের ‘আদানি হেল্থ সিটি’, পার্টনার মেয়ো ক্লিনিক
বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বড়সড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত! এবার রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কলকাতার নিউ টাউনে বিপুল পরিমাণ জমিতে ‘আদানি হেল্থ সিটি’ (Adani Health City) গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে আদানি গোষ্ঠী।
রফিকুল জামাদার
বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বড়সড় বিনিয়োগের ইঙ্গিত! এবার রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কলকাতার নিউ টাউনে বিপুল পরিমাণ জমিতে ‘আদানি হেল্থ সিটি’ (Adani Health City) গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে আদানি গোষ্ঠী।
নবান্ন সূত্রে খবর, সম্প্রতি রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর করণ আদানির একটি বৈঠক হয়েছে। ওই সাক্ষাতেও এই হেল্থ সিটি প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে আদানি গোষ্ঠী। এটি বাস্তবায়িত হলে তা পূর্ব ভারতের ইতিহাসে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি বিনিয়োগ হতে চলেছে।
১,০০০ শয্যার মেগা হাসপাতাল: ৫০০ বেডে মধ্যবিত্তের সাশ্রয়ী চিকিৎসা
নিউ টাউনের এই প্রস্তাবিত আদানি হেল্থ সিটিতে থাকবে ১,০০০ শয্যার একটি অত্যাধুনিক মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল— মোট বেড়ের অর্ধেক, অর্থাৎ ৫০০টি বেড সাধারণ মধ্যবিত্ত ও আর্থিকভাবে অনগ্রসর মানুষের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এখানে সঙ্গত খরচে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা মিলবে।
গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড: বাকি ৫০০টি বেড আন্তর্জাতিক মানের পেইড ক্যাটাগরি হিসেবে রেগুলার বাজারদরে সাধারণ ও বিদেশি রোগীদের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ মেয়ো ক্লিনিকের সঙ্গে চুক্তি?
এই প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল বিশ্বের অন্যতম সেরা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান মেয়ো ক্লিনিক-এর সঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর সহযোগিতা। আমেরিকার মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার শহরে সদর দফতর থাকা মেয়ো ক্লিনিক (Mayo Clinic) বিশ্বের বৃহত্তম অলাভজনক মাল্টি স্পেশালিটি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলির অন্যতম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা ও ফ্লোরিডাতেও তাদের প্রধান ক্যাম্পাস রয়েছে।
হৃদরোগ ও কার্ডিয়াক সার্জারি, ক্যানসার চিকিৎসা, নিউরোলজি ও নিউরোসার্জারি,অর্থোপেডিকস, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, অঙ্গ প্রতিস্থাপন, এন্ডোক্রিনোলজি, ইউরোলজি এবং জটিল ও বিরল রোগের চিকিৎসায় মেয়ো ক্লিনিক বিশেষভাবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছে।
বিশ্বজুড়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাদের মাল্টিডিসিপ্লিনারি টিম-ভিত্তিক মডেল, অত্যাধুনিক ডায়াগনস্টিক ব্যবস্থা, গবেষণা এবং রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসা পদ্ধতি বিশেষভাবে সমাদৃত।
কলকাতার প্রকল্পে মেয়ো ক্লিনিকের ভূমিকা কী হতে পারে?
আমদাবাদ ও মুম্বইতে এ ধরনের হেল্থ সিটি গড়ে তোলার ব্যাপারে আদানি গোষ্ঠী আগেই ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, মেয়ো ক্লিনিক তাদের গ্লোবাল কনলসাল্টিংয়ের মাধ্যমে এই হেল্থ সিটিগুলিকে কৌশলগত ও ক্লিনিক্যাল পরামর্শ দেবে।
এর মধ্যে থাকবে—হাসপাতালের সাংগঠনিক কাঠামো,আন্তর্জাতিক মানের ক্লিনিক্যাল প্রোটোকল, রোগী পরিষেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, ডিজিটাল হেলথ ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার আধুনিকীকরণ, জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন।
অর্থাৎ কলকাতার প্রস্তাবিত হাসপাতালে সরাসরি মেয়ো ক্লিনিকের গাইডলাইন ও আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল প্রোটোকল মেনে চিকিৎসা হবে। ডিজিটাল হেলথ, এআই (AI) প্রযুক্তি এবং আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কৌশলগত পরামর্শ দেবে এই মার্কিন সংস্থা।
হাসপাতালের পাশাপাশি আর কী কী থাকবে এই হেল্থ সিটিতে?
আদানি গোষ্ঠীর মতে, গৌতম আদানির সমাজকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তৈরি হওয়া এই হেল্থ সিটি শুধু একটি হাসপাতাল নয়, এটি একটি সম্পূর্ণ হাব। যেখানে পুরোদস্তুর একটি মেডিক্যাল কলেজও থাকবে। প্রতি বছর ১৫০ জন এমবিবিএস (MBBS) ছাত্র ভর্তির পরিকাঠামো রাখা হবে প্রস্তাবিত হেল্থ সিটিতে।
তা ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বায়োমেডিক্যাল ইনফরমেটিক্স এবং ক্লিনিক্যাল রিসার্চের অত্যাধুনিক ল্যাব থাকবে। সেই সঙ্গে থাকবে ৮০ জনের বেশি রেসিডেন্ট ডাক্তার এবং ৪০ জনের বেশি ফেলোশিপ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
পূর্ব ভারতের স্বাস্থ্য মানচিত্রে বিপ্লব!
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বহু রোগীকে জটিল চিকিৎসার জন্য চেন্নাই, বেঙ্গালুরু বা মুম্বই ছুটতে হয়। নিউ টাউনে এই আদানি হেল্থ সিটি তৈরি হলে ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তর-পূর্ব ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের রোগীরাও কলকাতাতেই আমেরিকার ধাঁচে বিশ্বমানের চিকিৎসা পাবেন।
এখন শুধু নিউ টাউনে জমি বরাদ্দ এবং রাজ্য সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষা। সব ঠিক থাকলে, নতুন সরকারের জমানায় এটাই হতে চলেছে বাংলার বুকে অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক চমক!
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)