ভারত সবুজ সংকেত দিলেও আদৌ আসবে পাকিস্তান? কী জানাল পাক হকি ফেডারেশন?
ভারতের মাটিতে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তান দলের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর দাবির পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার সরকারের হাতে ছাড়ল পাক হকি ফেডারেশন।
ভারতের মাটিতে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে (Asian Champions Trophy) পাকিস্তানের হকি খেলা নিয়ে ফের সংশয়। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান পাক দলের আসার কথা নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের (PHF) প্রধান মহিউদ্দিন আহমেদ ওয়ানি স্পষ্ট জানালেন, পড়শি মুলুকে যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে পাক সরকারের অনুমতির উপর।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার
পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক 'ডন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ানি একইসঙ্গে সে দেশের আন্তঃপ্রাদেশিক সমন্বয় মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় সচিব। তিনি জানিয়েছেন, জাতীয় দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে সরকার যে নির্দেশ দেবে, বোর্ড সেটাই মেনে চলবে। তাঁর কথায়, 'পাকিস্তান দলের সফর নির্ভর করছে সরকারি ছাড়পত্রের উপর। সরকার আমাদের যা করতে বলবে, আমরা সেটাই করব।' অর্থাৎ, ভারতের ভিসা বা প্রশাসনিক সবুজ সংকেত থাকলেও পাক দল ভারতে আসবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল না।
পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ও ভারতের ক্রীড়ানীতি
সোমবারই পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান জানিয়ে দেন, আগামী মাসে টুর্নামেন্ট খেলতে পাকিস্তান ভারতে আসছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান ক্রীড়ানীতি অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সম্ভব নয়। তবে বহুজাতিক টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রে আইনি কোনও বাধা নেই।
গত ৫ মে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রকের (Sports Ministry) জারি করা একটি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছিল, এ দেশে আয়োজিত বহুজাতিক ইভেন্টে পাকিস্তানের খেলোয়াড় ও দল অংশ নিতে পারবে। অ্যাথলিট ও কর্তাদের ভিসার বিষয়েও সদর্থক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়।
পঞ্জাব দিবসে মহারণের সূচি
২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর জলন্ধর ও মোহালিতে বসছে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর। মূল পর্বে খেলবে আয়োজক ভারত, পাকিস্তান, চিন, জাপান, মালয়েশিয়া এবং কোরিয়া। কোনও দেশ নাম প্রত্যাহার করলে স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়েছে ওমান এবং বাংলাদেশকে। জলন্ধরে ২৭ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে লিগ পর্যায়ের ম্যাচ (Sports News)। আর ১ নভেম্বর পঞ্জাব দিবসের দিনেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের (India vs Pakistan) মুখোমুখি হওয়ার কথা।
এই ম্যাচ নিয়ে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, '১ নভেম্বরের ভারত-পাক ম্যাচ এই টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে। দিনটি পঞ্জাব দিবস হওয়ায় মানুষের কাছে এর তাৎপর্য আরও বেশি। হকি মাঠে দুই দেশের রেষারেষি থাকলেও, খেলার একটা নিজস্ব ভাষা আছে।' ৪ এবং ৫ নভেম্বর মোহালিতে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।
অতীতের তিক্ততার ছায়া
রাজনৈতিক টানাপড়েনের জেরে দুই দেশের ক্রীড়া সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তলানিতে। গত বছর দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ দেখিয়ে তামিলনাড়ুতে আয়োজিত জুনিয়র বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল পাকিস্তান। পাশাপাশি বিহারের রাজগিরে আয়োজিত পুরুষদের এশিয়া কাপেও তারা অংশ নেয়নি (Hockey India)। এবারও পাক সরকার শেষ মুহূর্তে দলকে ভারতে আসার অনুমতি দেবে কি না, তা নিয়ে ক্রীড়ামহলে জল্পনা তুঙ্গে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)