মেটাবলিক সিন্ড্রোম: এদেশে হু হু করে বাড়ছে এই সমস্যা, নতুন বিপদ সংকেত, আপনি ঝুঁকিতে নেই তো?
পুরুষদের ক্ষেত্রে কোমরের মাপ ১০০ সেন্টিমিটারের বেশি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৯০ সেন্টিমিটারের বেশি হওয়া চিন্তার বিষয়। মনে রাখবেন, ওজন কতটা বাড়ছে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মেদ কোথায় জমছে। পেটের চারপাশের চর্বি রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
খাচ্ছেন কম কিন্তু মোটা হয়ে যাচ্ছেন, শতকিছু করেও ক্লান্তি কমে না, কিংবা খালি মেজাজ খিটখিটে, অথবা কিছুই যেন ভাল লাগছে না। এমন লক্ষণ প্রায়ই সবার হয় মাঝেমধ্যে। অনেকেই মনে করেন এটা হয়তো স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু বিষয়টা সহজ ব্যাপার ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। খাবার পাতের অনিয়ম, কায়িক পরিশ্রমের অভাব আর একটানা মানসিক চাপ—আধুনিক জীবনের এই তিন সঙ্গী নিঃশব্দে ডেকে আনছে এক মারাত্মক বিপদ। নাম ‘মেটাবলিক সিন্ড্রোম’ (Metabolic Syndrome)। এটি কোনও একক রোগ নয়, বরং একাধিক শারীরিক সমস্যার একটি জোট, যেটি ঝুঁকিপূর্ণ। টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং লিভারে চর্বি জমার (Non-alcoholic Fatty Liver) মতো বহু জীবনশৈলীজনিত ব্যাধির মূলে রয়েছে এই সিন্ড্রোম। সোজা কথায়, এটি আমাদের শরীরের ভেতরের স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হওয়ার একটি বড় সংকেত।
তবে আশার কথা এটাই যে, সময়মতো নিজের লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রায় সঠিক পরিবর্তন আনলে এই বিপদ এড়ানো তো বটেই, এমনকি একে পুরোপুরি রিভার্স বা নিরাময় করাও সম্ভব।
আপনি কি ঝুঁকির মুখে? কীভাবে বুঝবেন?
আপনার শরীর মেটাবলিক সিন্ড্রোমের শিকার কি না, তা বুঝতে কয়েকটি বিশেষ শারীরিক সূচক ও পরীক্ষার দিকে নজর দেওয়া জরুরি:
• মেদ বা কোমর বহর: পুরুষদের ক্ষেত্রে কোমরের মাপ ১০০ সেন্টিমিটারের বেশি এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৯০ সেন্টিমিটারের বেশি হওয়া চিন্তার বিষয়। মনে রাখবেন, ওজন কতটা বাড়ছে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মেদ কোথায় জমছে। পেটের চারপাশের চর্বি রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
• রক্তচাপ ও সুগার: রক্তচাপ ১৩০/৮০ mmHg-এর বেশি থাকা এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বা HbA1c ৮%-এর উপরে থাকা উচ্চ ঝুঁকির লক্ষণ।
• লিপিড প্রোফাইল: রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা ১৫০ mg/dL-এর বেশি এবং উপকারী কোলেস্টেরল বা HDL-এর মাত্রা ৪০ mg/dL-এর কম থাকা।
কাদের ঝুঁকি বেশি?
পুরুষদের কম বয়সেই এই রোগের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, মহিলাদের ক্ষেত্রে সাধারণত মেনোপজ বা ঋতুবন্ধের পর মেটাবলিক সিন্ড্রোমের আশঙ্কা বাড়ে।
প্রতিরোধ ও প্রতিরোধের উপায়: লাইফস্টাইল বদলই আসল চাবিকাঠি
ক্র্যাশ ডায়েট বা হঠাৎ সাময়িকভাবে খাওয়া কমিয়ে দেওয়া কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। এতে চর্বির বদলে পেশি বা মাসল লস হয় বেশি। স্থায়ী ও কার্যকর ফল পেতে মানতে হবে এই নিয়মগুলো।
১. পুষ্টিকর ডায়েট ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
• কার্বোহাইড্রেটে বদল: সাধারণ শর্করা (Simple Carbohydrates) বাদ দিয়ে জটিল শর্করা (Complex Carbohydrates) বা ফাইবার যুক্ত খাবার ডায়েটে যুক্ত করুন। হাই-গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
• কী খাবেন: পাতে রাখুন প্রচুর শাকসবজি, টাটকা ফল, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ডিম, লিন মিট (চিকেন বা মাছ) এবং পর্যাপ্ত উদ্ভিজ্জ প্রোটিন।
• খাওয়ার নিয়ম: একসঙ্গে অনেকটা না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খান। সারা দিনে প্রচুর জল পান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখুন।
২. নিয়মিত শারীরিক কসরত ও শরীরচর্চা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। তবে একবারে না পারলে অল্প দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে অভ্যেস বাড়ান।
• সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন হালকা ওয়েট লিফটিং বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং করুন। এতে শরীরের লিন মাসল বাড়ে।
• নিয়মিত ব্যায়ামে ভাল কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ে, খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) ও পেটের চর্বি কমে, এবং ঘুমের মান উন্নত হয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)