‘যাদবপুরে সব স্বাভাবিক রয়েছে কিন্তু কিষেনজি রেড স্যালুট চলবে না’, ফের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
এই রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার আবহে এক বিরাট সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ২৮ আগস্ট রাখিবন্ধন উৎসবের দিনটিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'দেশপ্রেম দিবস' হিসেবে পালন করা হবে। জাতীয় সংহতি ও ঐক্য বজায় রাখার বার্তা দিতে সেদিন রাজ্যজুড়ে প্রায় চার হাজার বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) সম্প্রতি গেরুয়াপন্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং তা কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে চলা তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ফের মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার নবান্নের এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, যাদবপুরে অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে, যথারীতি পঠনপাঠন ও ক্লাস চলছে এবং চিন্তার কোনও কারণ নেই।
যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস হস্টেলের কিছু নতুন ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সরকারের হস্তগত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ফুটেজের বিস্তারিত গোপন রাখলেও কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারি দেন, "যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ভাবেই 'কিষেনজি' বা 'রেড স্যালুট' বরদাস্ত করা হবে না। সরকারের কাছে প্রতিটি ঘটনার নথিপত্র ও প্রমাণ রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ঐতিহ্যবাহী ৪ নম্বর গেটে বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসুর আঁকা প্রতীকের ক্ষতি এবং পুলেওয়ামা হামলা বা 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের সোচ্চার হওয়ার ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
এই রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার আবহে এক বিরাট সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ২৮ আগস্ট রাখিবন্ধন উৎসবের দিনটিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'দেশপ্রেম দিবস' হিসেবে পালন করা হবে। জাতীয় সংহতি ও ঐক্য বজায় রাখার বার্তা দিতে সেদিন রাজ্যজুড়ে প্রায় চার হাজার বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও ঘোষণা করেন, দেশপ্রেম দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সম্পূর্ণ সততা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে 'বন্দে মাতরম' গানও গাওয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও 'দেশই সবার আগে'—এই মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
সোমবারই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুক ভিডিওবার্তায় যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে মুখ খুলে বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তছনছ চালানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক (Emblem) ভাঙচুরের ঘটনার কড়া নিন্দা জানান তিনি।
বলেন, "যাদবপুরে যখন হামলা হল, তখন আমার হৃদয় কেঁদেছে। দিল্লিতে যখন ছাত্ররা আন্দোলন করেছিল, আমি নিয়মিত ওদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম। বাঁকুড়ায় এক আন্দোলনকারী ছাত্রের বাবার আকস্মিক মৃত্যুতে আমি দলীয় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলাম। শুধু যাদবপুর নয়, প্রেসিডেন্সি ও আশুতোষ কলেজেও আক্রমণ চালানো হয়েছে।" মমতার প্রশ্ন, ভয় দেখিয়ে কি সব বিশ্ববিদ্যালয় দখল করার চক্রান্ত চলছে?
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জিত গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে র্যাঙ্কিংয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বর স্থান অধিকার করে আছে। পড়ুয়াদের সঙ্গে রাজনৈতিক বা আদর্শগত মতপার্থক্য আমার থাকতেই পারে, কিন্তু আমি কোনও দিন তাঁদের অশ্রদ্ধা করিনি। যখন ছাত্ররা অনশনে বসেছিল, আমি নিজে ছুটে গিয়েছিলাম।"
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)