'যে কেউ দেখা করতে চাইলে কি করতে পারে?' ঋত-শিবিরকে পাত্তা দেওয়ায় কমিশনকে নিশানা সাগরিকা-সৌগতর

ঋতব্রত আরও জানান, গত ২২ তারিখ তাঁদের বিশেষ প্রতিনিধি অধিবেশন নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে। তার পরদিনই নির্বাচন কমিশনের কাছে সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়। কমিশন সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন তাঁদের জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে বলেও দাবি করেন ঋতব্রত।

Jul 02, 2026 - 17:05
0 0
'যে কেউ দেখা করতে চাইলে কি করতে পারে?' ঋত-শিবিরকে পাত্তা দেওয়ায় কমিশনকে নিশানা সাগরিকা-সৌগতর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত এবার আরও স্পষ্ট। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) শিবিরের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির প্রতিনিধিরা। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত স্পষ্ট দাবি করেন, তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস এবং দলের চেয়ারম্যান অরূপ রায়। এই মন্তব্য সামনে আসতেই পাল্টা আক্রমণে নামলেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় ও সাগরিকা ঘোষ।

তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রশ্ন তোলেন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী কোনও রাজনৈতিক দলের অনুমোদিত প্রতিনিধিরাই কেবল ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। অথচ তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এমন কোনও আবেদন করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। সৌগত রায়ের প্রশ্ন, “যে কেউ দেখা করতে চাইলে কি নির্বাচন কমিশন দেখা করবে? এরকম নজির আগে কোথাও আছে?” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দল থেকে বহিষ্কৃত একজন নেতার নেতৃত্বে কীভাবে একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করার সুযোগ পেল, তা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে গিয়ে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করেন ঋতব্রত শিবিরের দশজন প্রতিনিধি। বৈঠক শেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা কমিশনের কাছে কোনও দাবি জানাতে যাননি। কারণ তাঁদের মতে, আসল দল তাঁরাই। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি দাবি করেন, তাঁদের পাশে দলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সমর্থন রয়েছে। শুধু বিধায়কই নন, বহু পুরসভার কাউন্সিলর, জেলা পরিষদের সদস্য এবং জেলা পরিষদের সভাপতিরাও তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ঋতব্রত আরও জানান, গত ২২ তারিখ তাঁদের বিশেষ প্রতিনিধি অধিবেশন নিয়ম মেনে সম্পন্ন হয়েছে। তার পরদিনই নির্বাচন কমিশনের কাছে সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়। কমিশন সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশন তাঁদের জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে বলেও দাবি করেন ঋতব্রত।

এই ইস্যুতে আরও কড়া সুর শোনা যায় তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষের গলায়। তিনি বলেন, দল থেকে বহিষ্কৃত এক নেতা নিজের অনুগামীদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। সাগরিকার অভিযোগ, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধী দলগুলিকে ভাঙার জন্য সব ধরনের রাজনৈতিক কৌশল ব্যবহার করছেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রত শিবিরের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতকে আরও প্রকাশ্যে এনে দিল। একদিকে নিজেদের ‘আসল দল’ বলে দাবি করছে ঋতব্রত গোষ্ঠী, অন্যদিকে কালীঘাটপন্থী শিবির তাঁদের গুরুত্বই দিতে চাইছে না। ফলে আগামী দিনে এই সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এখন নজর রয়েছে নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং জমা পড়া নথিপত্র খতিয়ে দেখে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায় কি না, তার দিকে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User