শুধু কাগজে সই করলেই হয় না, সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়া হিন্দু বিয়ের বৈধতা নেই! পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের
সামাজিক আর ধর্মীয় রীতিনীতি ছাড়া হিন্দু বিয়ে (Hindu Marriage) স্রেফ একটা 'বাতিল কাগজ'। আদালতে বিচারপতিরা বলেছেন, অগ্নিসাক্ষী রেখে সাত পাক না ঘুরলে, সেই বিয়ের কোনও আইনি বৈধতাই নেই।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইনি সই বা কোনও রকমে একটা মালাবদল! ভাবছেন বিয়েটা হয়ে গেল? আইন কিন্তু অন্য কথা বলছে! সম্প্রতি এক যুগান্তকারী রায়ে গুজরাত হাইকোর্ট (Gujarat High Court) স্পষ্ট জানিয়ে দিল, সামাজিক (Traditional Rituals) আর ধর্মীয় রীতিনীতি ছাড়া হিন্দু বিয়ে (Hindu Marriage) স্রেফ একটা 'বাতিল কাগজ'। আদালতে বিচারপতিরা বলেছেন, অগ্নিসাক্ষী রেখে সাত পাক না ঘুরলে, সেই বিয়ের কোনও আইনি বৈধতাই নেই।
বিয়ে কোনও নিছক উৎসব নয়: পর্যবেক্ষণ আদালতের
মামলাটির শুনানিতে গুজরাত হাইকোর্টের বিচারপতি ইলেশ ভোরা এবং বিচারপতি টি বচ্চনির ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, হিন্দু বিবাহ শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান বা উৎসব নয়। এটি আসলে একটি পবিত্র ধর্মীয় সংস্কার এবং আইনগতভাবে স্বীকৃত একটি বিশেষ সম্পর্ক।
দুই বিচারপতির বেঞ্চ হিন্দু বিবাহ আইনের ৭ নম্বর ধারার উল্লেখ করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন, যেমন-
আত্মার বন্ধন: বিয়ে মানে কেবল খাওয়া-দাওয়া, ভোজ বা নাচ-গানের আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি দুটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও দায়িত্বের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা আজীবনের এক প্রতিষ্ঠান।
সপ্তপদীর গুরুত্ব: হিন্দুদের বিয়ের বিভিন্ন রীতিনীতি মানুষের আত্মাকে পবিত্র করে। বিচারপতিরা সাফ জানান, অগ্নিসাক্ষী রেখে বর-বধূর 'সপ্তপদী' (সাত পাক ঘোরা) এবং একে অপরের পাশে থাকার অঙ্গীকার ছাড়া হিন্দু বিবাহ আইন মতে বিয়ে বৈধ হতেই পারে না। এই আচারগুলোই বিয়ের আধ্যাত্মিক, সামাজিক ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত করে।
কী ছিল মূল মামলাটি?
আদালতের এই কঠোর পর্যবেক্ষণের পিছনে ছিল একজন ব্রিটেন নিবাসী যুবকের দায়ের করা একটি মামলা। ওই যুবকের অভিযোগ ছিল, এক মহিলা জোর করে এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তাঁর সম্মতি ছাড়াই বিয়ের নথিতে সই করিয়ে নিয়েছিলেন। যুবকের দাবি, তাঁদের মধ্যে কোনও দিনই ধর্মীয় বা সামাজিক রীতিনীতি মেনে বিয়ে হয়নি (Validate Hindu Weddings), এমনকি তাঁরা কোনওদিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে একই ছাদের তলায় থাকেননি।
মামলা চলাকালীন অভিযুক্ত ওই মহিলাও আদালতের সামনে স্বীকার করে নেন যে, তাঁদের মধ্যে প্রথাগত কোনও ধর্মীয় বিয়ে হয়নি।
আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর গুজরাত হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যেহেতু এই ঘটনায় হিন্দু বিয়ের মূল এবং প্রধান উপাদান অর্থাৎ ধর্মীয় রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানগুলোই অনুপস্থিত ছিল, তাই এই বিয়েকে কোনওভাবেই বৈধ বলে গণ্য করা যাবে না। আদালতের এই রায় আগামী দিনে হিন্দু বিবাহ আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে একটি বড় নজির হয়ে থাকবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)