হড়পা বানে তিব্বতে নিখোঁজ ৫৫৮, নেপালে উদ্ধারকাজে নামল অতিরিক্ত দু'হাজার সেনা
চিন-নেপাল সীমান্তের তিব্বতের গিরিয়ং কাউন্টিতে ভয়াবহ ধসে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিকসহ নিখোঁজ ৫৫৮। অন্যদিকে নেপালে হড়পা বানের পর ৯৭ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে প্রায় ২ হাজার সেনা সদস্য।
চিন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ ধসের (mudslide) পর তিব্বতের গিরিয়ং কাউন্টিতে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৮। তাঁদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। মৃতের সংখ্যা এখনও ৩। একই সময়ে নেপালে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে প্রায় ২ হাজার সেনা।
চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, গিরিয়ং এলাকায় ধসের পর থেকেই বহু মানুষের খোঁজ মিলছে না। বুধবার সীমান্ত এলাকায় ধস নামার পর চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রথমে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছিল। পরে নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
চিন ও নেপালের মধ্যে পর্যটক এবং যানবাহন চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ গিরিয়ং সীমান্ত। ফলে সেখানে বিপর্যয়ের পর বহু পর্যটক ও যাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ বিদেশিদের পরিচয় বা তাঁরা কোথাকার, তা এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, নেপালের বিভিন্ন জেলায় হড়পা বানের পর জোরকদমে চলছে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান (search and rescue)। নেপাল সেনা প্রায় ২ হাজার কর্মীকে কাজে নামিয়েছে বলে খবর। স্থলপথের পাশাপাশি আকাশপথেও চলছে তল্লাশি।
নেপাল সেনার মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজরাম বসনেত জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় সেনা সদস্যদের বড় অংশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বানের জলে আটকে পড়া ৯৭ জনকে উদ্ধার করেছে তাঁরা।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিন জন ত্রিশূলী-তে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের (hydropower project) সুড়ঙ্গে আটকে ছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে নেপাল পুলিশের পাশাপাশি সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ধস ও বানের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারীদের একাধিক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। বিপর্যস্ত সেখানকার জনজীবন।
নেপালের রসুয়া, নুয়াকোট-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বানের জেরে বহু সেতু, বাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে চিন সীমান্তের তিব্বত অংশেও।
একদিকে তিব্বতে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৮-তে পৌঁছেছে। নেপালে মৃত ১৬৫, বাড়ছে লাফিয়ে। চলছে নিখোঁজদের সন্ধান। ফলে সীমান্তের দুই প্রান্তেই এখন মূল লক্ষ্য আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে সরিয়ে আনা।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)