‘হিমালয়ান সুনামি’র জন্য আঙুল ভারত-চিনের দিকে! রাষ্ট্রসংঘের নজর টানতে মরিয়া নেপাল
বন্যার ভয়াবহতা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে মরিয়া কাঠমান্ডু। ক্ষতিপূরণের দাবিকে জোরালো করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে পাঠানোর পরিকল্পনাও চলছে। সেখানে গিয়ে তিনি নেপালের বন্যা পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানাতে পারেন।
ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত নেপাল (Nepal Flash Flood) এবার সরাসরি ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলির তালিকায় চিন, ভারত এবং আমেরিকার নাম উল্লেখ করে কাঠমান্ডুর দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করা ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে বড় নির্গমনকারী রাষ্ট্রগুলির।
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় নেপালের (Nepal Flood) একাধিক জেলা বিপর্যস্ত হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১,১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৩,৯০০ জন এখনও নিখোঁজ। রিপোর্ট অনুযায়ী, নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে বিশাল পাথর ও বরফের ধসের জেরেই এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও এই ঘটনার সঠিক কারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটা, তা নিশ্চিত করতে এখনও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
বন্যার ভয়াবহতা এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরতে মরিয়া কাঠমান্ডু। ক্ষতিপূরণের দাবিকে জোরালো করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে পাঠানোর পরিকল্পনাও চলছে। সেখানে গিয়ে তিনি নেপালের বন্যা পরিস্থিতি তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানাতে পারেন।
নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের বক্তব্য, যে সব দেশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বড় ভূমিকা রেখেছে, তাদের উচিত সেই সব ঝুঁকিপূর্ণ দেশের ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব নেওয়া, যারা নিজেদের সামান্য অবদান সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতির শিকার হচ্ছে।
গত ২৬ অগস্ট ভোটকোশি নদীর অববাহিকা দিয়ে নেমে আসা ভয়াবহ বন্যায় নেপালের রাসুওয়া, নুওয়াকোট এবং ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বাড়ি, রাস্তা এবং সেতু। ক্ষতির মুখে পড়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিও। হাজার হাজার মানুষ এখনও ঘরছাড়া। বিপর্যয়ের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে নেপাল এই ঘটনাকে ‘হিমালয়ান সুনামি’ বলেও অভিহিত করেছে।
বন্যার ধ্বংসলীলা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে নেপালের বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া পরিকাঠামো এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি পুনর্গঠনে দেশটির ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার লাগবে বলে অনুমান। এই অঙ্ক নেপালের মোট অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান।
নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১,১০০ ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষ তখনও নিখোঁজ ছিলেন। প্রশাসন এবং বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকেই বন্যার সূত্রপাত হয়েছিল।
তবে এই বিপর্যয়ের সঠিক কারণ এখনও চূড়ান্ত ভাবে নির্ধারিত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কী ভাবে এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হল এবং এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগ কতটা, তা বুঝতে আরও বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা প্রয়োজন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)