৯/১১ প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক বিমানে নিরাপত্তায়, হামলার পর থেকে কী বদল এল আকাশ সফরের নিয়মে?

১১ সেপ্টেম্বর 'ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার'-এ ঘটে যাওয়া সেই সন্ত্রাসী হামলা বিশ্ব জুড়ে বিমান চলাচলের ছবিকে চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছিল। এই হামলার পর আমেরিকা সহ বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দর এবং ফ্লাইটের ভিতরে নিরাপত্তা বলয় এতটাই কঠোর করা হয়, যা আগে কল্পনাও করা যেত না।

Sep 19, 2026 - 16:17
0 0

২০০১ সালের পর কেটে গিয়েছে ২৫ বছর। ১১ সেপ্টেম্বর 'ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার'-এ ঘটে যাওয়া সেই সন্ত্রাসী হামলা বিশ্ব জুড়ে বিমান চলাচলের ছবিকে চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছিল। এই হামলার পর আমেরিকা সহ বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দর এবং ফ্লাইটের ভিতরে নিরাপত্তা বলয় এতটাই কঠোর করা হয়, যা আগে কল্পনাও করা যেত না।

৯/১১-র সেই ঐতিহাসিক ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবাকে নিরাপদ রাখতে কিছু ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ‘টিএসএ’ (TSA)-র আত্মপ্রকাশ

৯/১১-র ঘটনার আগে আমেরিকার প্রতিটি বিমানবন্দর বা বিমান সংস্থা স্বতন্ত্রভাবে স্থানীয় বেসরকারি সিকিউরিটি এজেন্সির মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনা করত। তবে এই ঘটনার পর ২০০১ সালের নভেম্বরে ইউএস কেন্দ্রীয় সরকার ‘ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (TSA) গঠন করে বিমানবন্দর নিরাপত্তার যাবতীয় ভার নিজেদের হাতে তুলে নেয়।

বর্তমানে এই কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রায় ৬৫,০০০ কর্মী রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৫০,০০০ কর্মী সরাসরি যাত্রী ও লাগেজ স্ক্যানিংয়ের কাজে যুক্ত থাকেন।

ধারালো সামগ্রীর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা

১৯৭০-এর দশক থেকেই বিমানবন্দরে মেটাল ডিটেক্টর এবং এক্স-রে মেশিন থাকলেও ক্যাবিন ব্যাগের উপর নিয়মকানুন বেশ শিথিল ছিল। ৯/১১-র হাইজ্যাকাররা কেবল পকেট নাইফ ও বক্স কাটার ব্যবহার করেই বিমান হাইজ্যাক করেছিল। এরপর থেকেই বিমানে ধারালো যেকোনও জিনিস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয় এবং তা কেবলই চেকড-ইন লাগেজে রাখার নিয়ম কার্যকর হয়।

শুধু টিকিট ও বৈধ আইডি ধারকদেরই প্রবেশাধিকার

২০০২ সালের আগে পর্যন্ত সাধারণ নাগরিক বা আত্মীয়স্বজনরাও টিকিট ছাড়াই রানওয়ে সংলগ্ন বোর্ডিং গেট পর্যন্ত গিয়ে যাত্রীদের বিদায় জানাতে বা স্বাগত জানাতে পারতেন। ৯/১১-র পর কেবল বৈধ টিকিট ও সরকারি পরিচয়পত্র (Valid ID) থাকা যাত্রীদেরই সিকিউরিটি গেট পেরিয়ে বোর্ডিং লাউঞ্জে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। (ব্যতিক্রম কেবল অভিভাবকহীন নাবালকদের সাথে আসা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)।

বুলেট-প্রুফ ককপিট ডোর ও পাইলটের নিরাপত্তা

আগে ককপিটে সাধারণ যাত্রী বা শিশুদের যাতায়াত সহজ ছিল এবং মাঝ আকাশে পাইলটরা বাচ্চাদের ককপিটে ডেকেও উৎসাহিত করতেন। তবে ৯/১১-র পর যুক্তরাষ্ট্রের 'ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন' (FAA) প্রতিটি বিমানে বুলেট-প্রতিরোধী ককপিট ডোর বসানো বাধ্যতামূলক করে। ২০০৩ সালের এপ্রিলের মধ্যে সমস্ত বিমান সংস্থা এই নিয়ম পালন করে। বর্তমানে উড়ানের আগে বা অবতরণের পর ককপিট দর্শনের বিষয়টি সম্পূর্ণ পাইলটের নিজস্ব ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে।

যাত্রী সংখ্যা হ্রাস ও বিমান সংস্থাসমূহের চরম আর্থিক বিপর্যয়

৯/১১ ঘটনার পরপরই বিশ্বজুড়ে বিমান ভ্রমণে মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয় এবং যাত্রী সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়। কর্পোরেট সংস্থাগুলিও অপ্রয়োজনীয় বিমান সফর বন্ধ করে দিয়েছিল। এর ফলে বিমান সংস্থাগুলির আয় মুখ থুবড়ে পড়ে এবং গণ-ছাঁটাই শুরু হয় (এমনকি ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ২০০২ সালের ডিসেম্বরে দেউলিয়া ঘোষণা করেছিল)। এই ধাক্কা সামলে উঠে বিমান শিল্পকে পুনরায় স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে অন্তত ২০০৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

কী ঘটেছিল ২৫ বছর আগের এই দিনে?

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়দার একদল আত্মঘাতী সন্ত্রাসী চারটি যাত্রীবাহী বিমান হাইজ্যাক করে পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও পরিকল্পিত জঙ্গি হামলাটি চালিয়েছিল। হাইজ্যাকাররা দুটি বিমান নিয়ে সরাসরি নিউইয়র্কের 'ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার'-এর ট্যুইন টাওয়ারে ধাক্কা মারে এবং তৃতীয় বিমানটি ভার্জিনিয়ার মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দফতর 'পেন্টাগন'-এ আঘাত হানে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের একটি ফাঁকা মাঠে ভেঙে পড়েছিল। ওই ভয়াবহতম হামলায় অন্তত ২,৯৭৭ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User