SIR: ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন!’ কমিশনের থেকে জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট

অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং অমৃতা জোহরি নামক দুই সমাজকর্মীর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ আবেদনের ভিত্তিতে এদিনের শুনানি হয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, ঠিক কী কারণে কোনও ভোটারের নামে নোটিস জারি হচ্ছে কিংবা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ শ্রেণিতে ফেলার মাপকাঠি কী - সে বিষয়ে দিল্লি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা জাতীয় নির্বাচন কমিশন কোনও স্বচ্ছতা বজায় রাখছে না।

Sep 22, 2026 - 18:07
0 0

দিল্লির ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) চলাকালীন লাখ লাখ সাধারণ ভোটারকে নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়ায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এই সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) কড়া বার্তা দিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, কোনওরকম চিন্তাভাবনা ছাড়াই প্রায় যান্ত্রিক উপায়ে একের পর এক ভোটারকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। ঠিক কীসের ভিত্তিতে বা কোন সমীকরণে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (Logical Discrepancy) করা হচ্ছে, কমিশনকে তা স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং অমৃতা জোহরি নামক দুই সমাজকর্মীর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ আবেদনের ভিত্তিতে এদিনের শুনানি হয়। মামলাকারীদের অভিযোগ, ঠিক কী কারণে কোনও ভোটারের নামে নোটিস জারি হচ্ছে কিংবা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ শ্রেণিতে ফেলার মাপকাঠি কী - সে বিষয়ে দিল্লি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা জাতীয় নির্বাচন কমিশন কোনও স্বচ্ছতা বজায় রাখছে না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনজীবীদের সওয়াল

মামলাকারীদের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে সওয়াল করেন, দিল্লি জুড়ে প্রায় ৩৩.১৩ লাখ ভোটারকে অত্যন্ত তুচ্ছ ও অস্পষ্ট কারণে নোটিস পাঠানো হচ্ছে, যা কার্যত উদ্বেগজনক। তাঁর এই যুক্তির সঙ্গে প্রাথমিক সম্মতি জানিয়ে বেঞ্চের অন্যতম সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, "একেবারে যান্ত্রিক উপায়ে প্রতিটি নোটিস পাঠানো হচ্ছে। সমস্ত সম্ভাবনা বলছে, এগুলি যন্ত্র বা সফটওয়্যার দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি (Machine-generated) নোটিস"। একই সুর মিলিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "এই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বিষয়টির ব্যাখ্যা আপনাদের আরও একটু স্পষ্টভাবে দিতে হবে।"

আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ প্রশ্ন তোলেন, যে সকল ভোটার ইতিপূর্বে গণনা সংক্রান্ত ফর্ম জমা দিয়েছেন এবং বয়স ও বাসস্থানের উপযুক্ত প্রমাণ পেশ করেছেন, তাঁদের আবার নতুন করে নথিপত্র দেখানোর নামে হেনস্থা করা হচ্ছে কেন? জবাবে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, বিপুল পরিযায়ী জনসংখ্যার কারণে দিল্লির ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাতাত্ত্বিক অবস্থান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

অন্য এক মামলাকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল একটি সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) কি আদৌ দিল্লির একাধিক বহুতল ভবনের প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছচ্ছেন? সিব্বলের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী কিছুটা হালকা চালে বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় দিল্লির এই কাজটি সামলানো অনেক সহজ, কারণ সেখানে (পশ্চিমবঙ্গে) এই ধরণের মহড়া চালানো আরও কঠিন ছিল।"

কমিশনের ব্যাখ্যা

নির্বাচন কমিশনের পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী আদালতকে জানান, ভোটারদের সহায়তার জন্য জায়গায় জায়গায় ক্যাম্প ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে, এমনকী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও তৈরি করা হয়েছে।

তবে শুনানির শেষে সর্বোচ্চ আদালত পরামর্শ দেয় যে, সাধারণ ভোটারের আস্থা বাড়াতে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি বিএলও-রা যাতে প্রতিটি ওয়ার্ড অফিসে সরাসরি ভোটারদের পরিষেবা দিতে উপস্থিত থাকেন, তাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User