West Bengal SIR: ৭ লক্ষ নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন, দ্রুত নিষ্পত্তি নিয়ে ফের কমিশনকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের
বাদ পড়া ভোটারদের দায়ের করা যে ৮৩ হাজার আপিল এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে, তার মধ্যে ৭৫ হাজারের নাম নতুন করে ভোটার তালিকায় সংযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, নিষ্পত্তি হওয়া আপিলগুলির প্রায় ৯০ শতাংশের রায় ভোটারদের পক্ষে গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গ এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী আপিল ট্রাইব্যুনাল (SIR Tribunal) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বড় তথ্য সামনে এল। হলো দেশের শীর্ষ আদালতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের তরফে মোট ৩৮ লক্ষ আপিলের মধ্যে প্রায় ৩১ লক্ষ আপিলই (প্রায় ৮০ শতাংশ) ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে বা বাদ দেওয়ার দাবিতে দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার পর পুনর্বহালের জন্য মাত্র ৭ লক্ষ ভোটার আবেদন জানিয়েছেন।
আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন আদালতকে জানান যে, বাদ পড়া ভোটারদের দায়ের করা যে ৮৩ হাজার আপিল এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে, তার মধ্যে ৭৫ হাজারের নাম নতুন করে ভোটার তালিকায় সংযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, নিষ্পত্তি হওয়া আপিলগুলির প্রায় ৯০ শতাংশের রায় ভোটারদের পক্ষে গিয়েছে। এই পরিসংখ্যানে বিস্ময় প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে, বাদ পড়া ভোটারদের আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির দাবিটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, এসআইআরে নাম বাদ যাবার কারণে যারা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে না, তাদের ক্ষেত্রে পুরনো অবস্থান ফের ব্যক্ত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়ার অর্থ, নাগরিকত্ব যাওয়া নয়। সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া নয়।’ এই প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতির নির্দেশ, কমিশনকে হলফনামা জমা দিয়ে জানাতে হবে, মোট কত নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে, আর মোট কত নাম বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের খামখেয়ালীপনার কারণে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, আপিল ট্রাইব্যুনালের কাজ এত ধীরগতিতে চলছে যে বর্তমান গতিতে সব আবেদন নিষ্পত্তি করতে প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর সময় লেগে যেতে পারে। তিনি সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেন, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ এবং মালদহের মতো জেলায় অবিলম্বে ব্লক-ভিত্তিক আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, বিপুল সংখ্যক আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য বর্তমান পরিকাঠামো যথেষ্ট নয়।
অধীররঞ্জন চৌধুরী আরও দাবি করেছেন, ট্রাইব্যুনালগুলিতে মামলার চাপ অত্যন্ত বেশি। সেই কারণে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আরও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে নিয়োগ করা উচিত। তাঁর বক্তব্য, পর্যাপ্ত বিচারক না থাকলে লক্ষ লক্ষ আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকবে এবং যোগ্য ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এখন নজর থাকবে নির্বাচন কমিশন কী তথ্য জমা দেয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)