World Cup 2026: যে ট্যাকলে বালোগুন লাল কার্ড দেখেন, হবহু সেই চ্যালেঞ্জে মেসি পার পান কী করে? উঠল প্রশ্ন
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বনাম লিওনেল মেসির প্রায় একই রকম ট্যাকলে পার পেয়ে যাওয়া নিয়ে তোলপাড় ফুটবলবিশ্ব। ফিফার দ্বিমুখী নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বকাপে আমেরিকার জয় যতটা আলোচনায়, তার চেয়ে কোনও অংশে কম নয় ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড (Folarin Balogun Red Card)। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ভিডিও সহকারী রেফারির হস্তক্ষেপে আমেরিকার এই স্ট্রাইকারকে মাঠ ছাড়তে হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের পরই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক (FIFA World Cup 2026)। বহু সমর্থকের দাবি, চলতি বিশ্বকাপেই লিওনেল মেসি প্রায় একই ধরনের ট্যাকল করেছিলেন (Lionel Messi Tackle)। অথচ তাঁর ক্ষেত্রে লাল তো দূর, হলুদ কার্ডও দেখানো হয়নি! স্বাভাবিকভাবে ফিফার রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ঘনিয়ে উঠেছে।
বালোগুনের ট্যাকলে কেন লাল কার্ড?
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে (USA vs Bosnia) দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল নিতে গিয়ে ফোলারিন বালোগুনের বুট গিয়ে পড়ে তারিক মুহারেমোভিচের ডান গোড়ালিতে। ব্রাজিলের রেফারি রাফায়েল ক্লাউস প্রথমে কোনও কার্ড দেখাননি। পরে ভিডিও সহকারী রেফারির পরামর্শে মাঠের ধারের মনিটরে রিপ্লে দেখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলান (VAR Red Card Decision)। এরপরই সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয় বালোগুনকে।
এরপরও অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি আমেরিকা। ১০ জন নিয়ে খেলেও তারা ২-০ ব্যবধানে জিতে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় (World Cup Knockout Stage)। তবে লাল কার্ডের জেরে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে পরের ম্যাচে নামতে পারবেন না আমারিকার গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার (Belgium vs USA)। সবচেয়ে বড় কথা, নির্বাসনের বিরুদ্ধে আপিলেরও কোনও সুযোগ নেই।
মেসির ক্ষেত্রে কী হয়েছিল?
বিতর্কের সূত্রপাত আগের একটি ম্যাচ থেকে। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে আর্জেন্তিনা ১-০-তে এগিয়ে থাকার সময় বল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান লিওনেল মেসি। পিছন দিক থেকে ট্যাকল করতে গিয়ে তাঁর পায়ের স্টাডস গিয়ে লাগে আলজেরিয়া অধিনায়ক আইসা মান্দির ডান পায়ের পেশি এবং অ্যাকিলিস টেন্ডনের অংশে। রিপ্লেতে স্পষ্ট, মেসির বুট মান্দির পায়ের উপর দিয়েই নেমে গিয়েছে। অদ্ভুতভাবে পোল্যান্ডের রেফারি সিমন মারচিনিয়াক সঙ্গে সঙ্গে ফাউলের বাঁশি বাজালেও কোনও হলুদ কার্ড দেখাননি। ভিডিও সহকারী রেফারিও ঘটনাটি খতিয়ে দেখেন। কিন্তু মাঠের রেফারিকে মনিটরে গিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়ার বদলে একটি ফ্রি-কিক দিয়েই খেলা ফের শুরু করতে বলেন।
সমর্থকদের প্রশ্ন, কী বললেন পচেত্তিনো?
দুই ঘটনার ভিডিও পাশাপাশি রেখে সমাজমাধ্যমে তুলনা টানতে শুরু করেন বহু সমর্থক। তাঁদের দাবি, দু'টি ট্যাকলের প্রকৃতিতে মিল থাকলেও শাস্তির ক্ষেত্রে আশমান-জমিন ফারাক। ফিফার রেফারিংয়ে একই ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আলাদা মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, উঠেছে প্রশ্ন। লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত মানতে অপারগ আমেরিকার কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও। তাঁর বক্তব্য, ‘এটা কখনওই ইচ্ছাকৃত ছিল না। কোনও ভাবেই লাল কার্ড নয়। যদি উদ্দেশ্য প্রতিপক্ষকে আঘাত করা হয়, তা হলে আমি বুঝতে পারি। কিন্তু এখানে তা হয়নি। বলের জন্য লড়াই করতে গিয়ে স্বাভাবিক ফুটবলীয় পরিস্থিতিতে ওর পা সেখানে গিয়ে পড়ে।’
এমনিতেই এবারের বিশ্বকাপে ভিডিও সহকারী রেফারির একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে একগাদা বিতর্ক জমেছে। বালোগুন-মেসি তুলনা আগুনে ঘি ঢালল।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)