কঠিন সময়ে কলকাতায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার মহম্মদ খালেদ, তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জ কী কী
একজন অভিজ্ঞ পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে খালেদ ২০০৬ সালে সহকারী সচিব পদে বিদেশ মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। তিনি বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসের (বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডার) ২৫ তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। কূটনৈতিক কর্মজীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার পদে চলতি মাসেই দায়িত্ব নিতে আসছেন সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের অফিসার মহম্মদ খালেদ। তিনি বর্তমানে চিনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের পদে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ভারত সরকার তাঁর নিয়োগ অনুমোদন করেছে বলে সরকারি সূত্রে খবর।
কলকাতা হল বাংলাদেশের প্রথম হাইকমিশন অফিস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন পাকিস্তানের উপ হাইকমিশনের কর্তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে সেটিকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম হাইকমিশন অফিস হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু নানা সময়েই কূটনৈতিক টানাপোড়নের কারণে কলকাতার উপ হাইকমিশন অফিস উপযুক্ত মর্যাদা পায়নি।
যেমন বিগত দুবছর উপ-হাইকমিশনার পদে স্থায়ীভাবে কেউ ছিলেন না। আন্দালিব ইলিয়াস উপ-হাইকমিশনার পদ থেকে শ্রীলংকার হাইকমিশনার হয়ে যাওয়ার পর মহম্মদ আশরাফুর অস্থায়ীভাবে উপ হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার পর মেয়াদ শেষে চলতি মাসে ঢাকায় ফিরে গিয়েছেন। বর্তমানে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করছেন ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) আয়েশা আক্তার।
একজন অভিজ্ঞ পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে খালেদ ২০০৬ সালে সহকারী সচিব পদে বিদেশ মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। তিনি বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসের (বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডার) ২৫ তম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। কূটনৈতিক কর্মজীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কুনমিংয়ে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ইয়াঙ্গন (মিয়ানমার), লিসবন (পর্তুগাল) ও এথেন্সে (গ্রিস) অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া বিদেশ মন্ত্রণালয়েও তিনি অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সার্ক (SAARC), বিমসটেক (BIMSTEC), পশ্চিম এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও আফ্রিকা উইং এবং ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উইংয়ের গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কগুলোর দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি গ্রিসের ন্যাশনাল অ্যান্ড কাপোডিস্ট্রিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ এথেন্স থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অফ ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস’ থেকে ফরেস্ট্রি ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই কূটনীতিক কলকাতায় উপ হাইকমিশনারের দায়িত্ব পালন করতে আসছেন। পশ্চিমবঙ্গের সদ্য ক্ষমতার পরিবর্তন হয়ে শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তারপর থেকেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশ ব্যাকের মাত্রা বেড়ে গিয়েছে। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া হবে। এ নিয়ে দু'দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে বিবাদ চলমান। বাংলাদেশের বক্তব্য, ভারত আন্তর্জাতিক আইন অগ্রাহ্য করে পুশব্যাক করছে। যাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে ভারতের কোন আদালত তাদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করেনি। বরং ভারতীয় নাগরিকদেরও বাংলাদেশি বলে পুশ করার ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা পাঠানোর পরও বাংলাদেশ সরকার তাদের নাগরিকত্ব এবং বাসস্থানের ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য দিচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়েছে।
অনুপ্রবেশ, পুশব্যাক নিয়ে টানাপোড়েন ছাড়াও গঙ্গা ও তিস্তার জলচুক্তি, আওয়ামী লিগ নেতাদের কলকাতাসহ ভারতের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে অবস্থান সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন হাইকমিশনারকে খুবই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আবার এরই পাশাপাশি দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজটিও করতে হবে। ভারত ঢাকায় তাদের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ করার পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও দাবি উঠেছিল দিল্লি ও কলকাতায় রাজনীতিকদের হাইকমিশনার পদে বসানো হোক। কিন্তু তারেক রহমানের সরকার এখনই তেমন পদক্ষেপ করতে ইচ্ছুক নয়। দিল্লিতে হাইকমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিয়াজ হামিদুল্লাহ বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রকের একজন দক্ষ পেশাদার কূটনীতিক হিসেবে পরিচিত। দুদেশের মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি ভারতের সরকার, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে সেতুবন্ধনে অনেকটাই সফল বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতার ডেপুটি হাইকমিশনার পদে পেশাদার কূটনীতিক মহম্মদ খালেদ কী ভূমিকা পালন করেন সেদিকে সকলের নজর থাকবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)