'অভিষেকের অভিযোগ ধরে ধরে জবাব দিতে সময় প্রয়োজন,' সাংসদ পদ বাঁচাতে স্পিকারের কাছে আরও একমাস চাইল NCPI
সাংসদ পদ খারিজের নোটিসের উত্তর দিতে লোকসভার স্পিকারের কাছে আরও ৪ সপ্তাহ সময় চাইলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ২০ জন এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের বিস্তারিত জবাব দিতে সচিবালয়ে আর্জি দলত্যাগী নেতাদের। বিস্তারিত পড়ুন।
খাতায়-কলমে তাঁরা এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। তবে বাস্তবে সেই দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই (NCPI)-এ জুড়ে হাত মিলিয়েছেন এনডিএ (NDA) শিবিরের সঙ্গে। বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) পর থেকেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Banerjee), কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের (Kakali Ghosh Dastidar) মতো ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদের এই ভূমিকা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। এবার তাঁদের দলত্যাগবিরোধী আইন অনুযায়ী সাংসদ পদ কেন খারিজ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আনা অভিযোগের প্রেক্ষিতে লোকসভার সচিবালয়ে চিঠি পাঠিয়ে আরও চার সপ্তাহ বা এক মাস সময় চাইলেন এই দলত্যাগী নেতারা।
প্রথম দফায় ২৫ অগস্ট সচিবালয়ের তরফে এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা দলত্যাগবিরোধী আইন প্রয়োগ না করার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছিল লোকসভার সচিবালয়ের তরফে। সেই নোটিসের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রথম দফায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়দের আবেদন মেনে সময় বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করেছিল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Lok Sabha Speaker Om Birla) দফতর। কিন্তু এই বেঁধে দেওয়া সময়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সচিবালয়ের কাছে নতুন করে ফের সময় চান তৃণমূলের এই প্রাক্তন সাংসদরা।
জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রটি প্রায় ২০ পাতার এক দীর্ঘ নথি। সেখানে বহু অভিযোগ ও তথ্যাদি তুলে ধরা হয়েছে। সাংসদদের বক্তব্য, প্রতিটি অভিযোগ ও নথির পয়েন্ট ধরে ধরে সুনির্দিষ্ট আইনি উত্তর তৈরি করার জন্যই অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। সেই কারণে তাঁরা লোকসভার স্পিকারের কাছে ফের দরবার করেছেন।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কার পরই প্রকাশ্যে আসে তৃণমূলের একাংশের এই তীব্র অসন্তোষ। মূলত প্রচারের আলো থেকে এতদিন দূরে থাকা এনসিপিআই দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সুদীপ-কাকলিরা বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একই মঞ্চ ও বৈঠকে তাঁদের সচ্ছল উপস্থিতি দেখা গেলেও, সংসদের খাতায় তাঁরা এখনও তৃণমূলেরই প্রতিনিধি। এই আইনি মারপ্যাঁচকে কাজে লাগিয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে স্পিকার থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াই চালাচ্ছেন। এবার স্পিকার তাঁদের এই অতিরিক্ত সময় চাওয়ার আর্জিতে সাড়া দেন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)