আখ যাচ্ছে ইথানলে, চিনির জোগান বাড়াতে ১০ বছর পর বিদেশ থেকে আমদানির ভাবনা! দাম বাড়ছে হুহু করে

ইথানল উৎপাদনে আখের ব্যবহার বাড়ায় বাজারে চিনির জোগান কমছে। উৎসবের মরসুমে খুচরো বাজারে চিনির দাম হুহু করে বাড়ায় ১০ বছর পর ফের বিদেশ থেকে চিনি আমদানির কথা ভাবছে কেন্দ্র।

Aug 20, 2026 - 13:25
0 0
আখ যাচ্ছে ইথানলে, চিনির জোগান বাড়াতে ১০ বছর পর বিদেশ থেকে আমদানির ভাবনা! দাম বাড়ছে হুহু করে

ভারতে চিনি উৎপাদনের জন্য আখের অভাব নেই। অথচ বাজারে চিনির জোগান নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। একদিকে জ্বালানি তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে আখের বড় অংশ যাচ্ছে ইথানল উৎপাদনে, অন্যদিকে উৎসবের মরসুমের আগে হুহু করে বাড়ছে চিনির দাম। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, প্রায় এক দশক পর ফের বিদেশ থেকে চিনি আমদানির কথা ভাবতে হচ্ছে কেন্দ্রকে। একই সঙ্গে মজুতের উপরেও কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে পাইকারি চিনির দাম অগস্টের শুরু থেকে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে প্রতি ১০০ কেজিতে ৫,৩৫০ টাকা ছুঁয়েছে। মঙ্গলবার সারা দেশে খুচরো বাজারে গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫২.৩০ টাকা। পাঞ্জাবে কোথাও কোথাও তা ৬৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। মুম্বই, ভোপাল-সহ কয়েকটি বাজারে দাম ঘোরাফেরা করছে ৫৮ থেকে ৬৩ টাকার মধ্যে।

আগামী দিনে গণেশ চতুর্থী, দুর্গাপুজো এবং দীপাবলির মতো উৎসব। এই সময়ে মিষ্টি ও নানা খাদ্যপণ্যে চিনির চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। রয়েছে ক্রিস্টমাসও। ফলে জোগানে টান আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্র ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নতুন মজুতসীমা (stock limit) চালু করেছে। মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মজুত রাখতে পারবেন।

চিনির এই সংকটের নেপথ্যে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে আসছে ইথানল নীতি (ethanol policy)। E20 লক্ষ্যে পৌঁছতে গত কয়েক বছরে আখের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইথানল তৈরিতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি দেশে ৪৯৯টি কেন্দ্রে বছরে প্রায় ১,৮২২ কোটি লিটার ইথানল উৎপাদনের ক্ষমতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, আখের এই বিভাজন চিনির সরবরাহে চাপ তৈরি করেছে।

লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তথা কৃষি বিশেষজ্ঞ সুধীর পানওয়ারের মতে, ইথানলের জন্য আখ সরিয়ে নেওয়ার প্রভাবেই চিনির দাম বেড়েছে। তাঁর মতে, আখের উৎপাদন বাড়লেও কতটা চিনি তৈরিতে যাচ্ছে, আর কতটা জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেই হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরপ্রদেশে ২০২৫-২৬ মরসুমে ফসলের রোগের কারণে আখের উৎপাদনশীলতা ও চিনি পুনরুদ্ধারের হারও কমেছে।

উদ্বেগ রয়েছে দেশে চিনির মজুত নিয়েও। ২০২৬-২৭ মরসুমের শুরুতে উদ্বোধনী মজুত ৪০-৪২ লক্ষ টনে নেমে আসতে পারে বলে শিল্পমহলের অনুমান। কিছু গবেষকের হিসাব আরও কম—৩২-৩৫ লক্ষ টন। অথচ প্রয়োজন প্রায় ৫০ লক্ষ টন।

ফলে একদিকে রফতানি বন্ধ, অন্যদিকে এবার আমদানি শুল্ক কমানোর কথা ভাবছে কেন্দ্র। বর্তমানে চিনির উপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক রয়েছে। পাশাপাশি ইথানলের জন্য আখ সরানোর পরিমাণ কমিয়ে চিনি উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনও খাদ্য বনাম জ্বালানির ভারসাম্য না মেলা পর্যন্ত E20-এর পর আর এগোনোর আগে খরচ-সুফল বিচার করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

সব মিলিয়ে প্রশ্নটা এখন শুধু চিনির দাম নিয়েই শুধু নয়। জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে আখের কতটা ইথানলে যাবে, আর সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের জন্য কতটা চিনি থাকবে—সেই ভারসাম্যই এখন কেন্দ্রের বড় চ্যালেঞ্জ।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User