কারও বয়স ২১, কারও ৫৬! তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃত-আহতদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ্যে
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকাল থেকেই এই নির্মীয়মাণ বহুতলের মূল লোহার কাঠামোটি অস্বাভাবিক এবং বিপজ্জনকভাবে দুলছিল। ৫ তলা এই বিশাল পরিকাঠামোর একটি বড় অংশে যে বড়সড় গলদ তৈরি হয়েছে, তা সকালের দিকেই বুঝতে পেরেছিলেন অনেকে।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার তারাতলায় (Taratala Godown Accident) যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তাতে এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর আসছে। অন্তত ১৮ জন ধ্বংসস্তূপে আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা! ইতিমধ্যে ২২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। তাঁদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যুর হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২ জনের নাম জানা গেলেও বাকি একজনের পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রাথমিক তালিকা অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে রয়েছেন ৪০ বছরের রোহিত চৌধুরী, ৩০ বছরের কৃষ্ণা চৌধুরী এবং বছর তিরিশের এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। আর আহতদের মধ্যে রয়েছেন ৫৬ বছরের দুর্বাসা মল্লান, ২২ বছরের মণি চাঁদ কুমার, ২৬ বছরের সাহিদ কুমার, ২৫ বছরের রাজেশ রুইদাস, ২৮ বছরের বিশ্ব প্রকাশ, ২৮ বছরের বোদান মুন্ডা, ৫৫ বছরের রাজেন্দ্র রাও এবং ২১ বছরের রামপ্রসাদ চৌধুরী।
কীভাবে এই কাঠামোটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল (Taratala News Today) তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করেছে। জানা গেছে, কয়েক হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল জমিটির আসল মালিকানা আসলে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ বা পোর্ট ট্রাস্টের (Kolkata Port Trust)। বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই জমিটি লিজে (Lease) নিয়েছিল একটি বড় চা প্রস্তুতকারক সংস্থা। সেখানে তাদের একটি বিশাল ‘চায়ের গুদাম’ (Tea Warehouse) তৈরি করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল। সেই লক্ষ্যেই গত প্রায় দেড় বছর ধরে সেখানে একটি ৫ তলা বহুতল নির্মাণের কাজ চলছিল, যার ছাদ ও লোহার ফ্রেম বুধবার দুপুরে আচমকা ভেঙে পড়ে এই ভয়াবহ রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকাল থেকেই এই নির্মীয়মাণ বহুতলের মূল লোহার কাঠামোটি অস্বাভাবিক এবং বিপজ্জনকভাবে দুলছিল। ৫ তলা এই বিশাল পরিকাঠামোর একটি বড় অংশে যে বড়সড় গলদ তৈরি হয়েছে, তা সকালের দিকেই বুঝতে পেরেছিলেন অনেকে।
সেই নড়বড়ে কাঠামোটি ঠিক কতটা সুরক্ষিত বা তাতে কী সমস্যা হয়েছে, তা সশরীরে খতিয়ে দেখতে ও ‘পরখ’ করতেই দুপুরে বেশ কয়েকজন শ্রমিক সেই নির্দিষ্ট কাঠামোর ছাদের নীচে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তাঁরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো ৫ তলা কাঠামোর লোহার ভারী বিম ও ছাদ বিকট শব্দে হুড়মুড় করে ধসে পড়ে। ফলে পরখ করতে যাওয়া এবং নীচে কাজ করা শ্রমিকরা মুহূর্তের মধ্যে টন টন ওজনের লোহার চাঁই ও ধ্বংসস্তূপের নীচে জীবন্ত চাপা পড়ে যান।
গোডাউন বিপর্যয়ের (Taratala Godown Collapse) জেরে ইতিমধ্যে কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘নির্মাণের প্ল্যানেই গুরুতর ত্রুটি ছিল’, পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাথমিক রিপোর্টের ভিত্তিতে একথা স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত গোটা কলকাতা পুরসভা (KMC) এলাকায় সমস্ত রকম বাণিজ্যিক ও সন্দেহজনক বহুতলের নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সময়ের মধ্যে প্রতিটি সাইটে চলবে পুঙ্খানুপুঙ্খ অডিট।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময়ে ওই বিশাল গুদামের ভেতরে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। উদ্ধার হওয়া সবাইকে গ্রিন করিডোর করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গ্যাসকাটার দিয়ে লোহার বিমগুলি কেটে এবং জেসিবি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে ভেতরের আটকে থাকা বাকি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুর্ঘটনাস্থলে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)