টিটিপি জঙ্গির সঙ্গে যোগসাজশ, ভারতে হামলার ছক! বেঙ্গালুরুতে ধৃত পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা

পুলিশ প্রথম ওই যুবকের সন্দেহজনক নানা কার্যকলাপের গোপন খবর পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আসাফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে দাবি, আসাফুল স্বীকার করেছেন যে পাকিস্তানে মুসলমানদের ওপর পাকিস্তানি সেনার অত্যাচার, যার মধ্যে মসজিদ ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলাও রয়েছে - তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষুব্ধ ছিলেন।

Aug 15, 2026 - 18:55
0 0

পাকিস্তানি সেনা (Pakistan Army) এবং ভারতের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর ছক তৈরি করতে ‘তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান’ (TTP)-এর এক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে বেঙ্গালুরু থেকে এক যুবককে (West Bengal News) আটক করল পুলিশ। ধৃত ২৫ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম আসাফুল মল্লিক। তিনি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নোয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে খবর, বেঙ্গালুরুর জিগনি এলাকা থেকে সন্দেহজনক অনলাইন কার্যকলাপ এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে আসাফুলকে আটক করা হয়েছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আসাফুল বর্তমানে জিগনির এপিসি সার্কেলের কাছে বসবাস করছিলেন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে জিগনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়ার ‘টাটা অ্যাডভান্সড লিমিটেড’-এ একজন নিরাপত্তা রক্ষী (Security Guard) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ প্রথম ওই যুবকের সন্দেহজনক নানা কার্যকলাপের গোপন খবর পায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে আসাফুলকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে দাবি, আসাফুল স্বীকার করেছেন যে পাকিস্তানে মুসলমানদের ওপর পাকিস্তানি সেনার অত্যাচার, যার মধ্যে মসজিদ ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলাও রয়েছে - তা নিয়ে তিনি তীব্র ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর পাশাপাশি ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন ইস্যুতে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রতিও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পুলিশ আরও দাবি করেছে যে, ভারতে বসবাসকারী মুসলিমরা যদি কোনও সমস্যায় পড়েন, তবে তার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যও আসাফুলকে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছিল।

তদন্তে জানা গেছে, আসাফুল ফেসবুকে 'ইমরান হায়দার' নামে আফগানিস্তানের এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিলেন, যিনি তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (TTP) সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। আসাফুল আফগানিস্তানে যাওয়ার জন্য ইমরান হায়দারের সাহায্য চেয়েছিলেন এবং এর জন্য ভিসার আবেদনও করেছিলেন। তবে পরবর্তীকালে আর্থিক অনটন এবং পরিবারের দেখাশোনার প্রয়োজনীয়তার কথা ভেবে তিনি ওই পরিকল্পনা ত্যাগ করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

ঘটনার পর পুলিশ আসাফুলের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষা চালালে ইমরান হায়দারের সঙ্গে তাঁর একাধিক চ্যাট, ভয়েস কল এবং অডিও বার্তার রেকর্ড উদ্ধার হয়। সন্দেহভাজনের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের পরিধি ঠিক কতখানি, তা খতিয়ে দেখতে তাঁর মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া অডিও ও চ্যাটের নথি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User