দুর্গাপুরের মেডিক্যাল কলেজের হস্টেলে বিহারের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু! ঘর থেকে উদ্ধার ঝুলন্ত দেহ
ঘরের দরজা ভাঙা হলে ভিতরে ঝুলন্ত অবস্থায় অভিষেককে দেখা যায়। দ্রুত তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হস্টেল থেকে প্রথম বর্ষের এক তরুণ মেডিক্যাল পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Durgapur medical student death)। বিহার থেকে ডাক্তারি পড়তে আসা ওই পড়ুয়ার (Bihar student death in Durgapur) নাম অভিষেক কুমার (২০)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান এটি আত্মহত্যার ঘটনা (Durgapur college hostel case)। তবে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত করতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার করতে পারেনি।
বিহারের সীতামারির বাসিন্দা অভিষেক কাঁকসার রাজবাঁধের একটি মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন, সেখানে কলেজের হস্টেলেই থাকতেন। হস্টেলের ঘরে তাঁর সঙ্গে আরও এক সহপাঠী থাকতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাঁর সহপাঠী নমাজ পড়তে বেরিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বারবার ডাকাডাকি করেও অভিষেকের কোনও সাড়া না পেয়ে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে হস্টেল ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
ঘরের দরজা ভাঙা হলে ভিতরে ঝুলন্ত অবস্থায় অভিষেককে দেখা যায়। দ্রুত তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তদন্তে পুলিশ ও কলেজ কর্তৃপক্ষ
ঘটনার পরপরই হস্টেল কর্তৃপক্ষের তরফে বিহারে অভিষেকের পরিবারকে খবর পাঠানো হয়। কাঁকসা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমে হস্টেলের সেই ঘরটিতে তল্লাশি চালিয়েছে এবং মৃত পড়ুয়ার সহপাঠীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।
এই চরম পদক্ষেপের নেপথ্যে কোনও মানসিক অবসাদ, ব্যক্তিগত উদ্বেগ নাকি অন্য কোনও চাপ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে মেডিক্যাল কলেজের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার শুভঙ্কর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, "দুজন পড়ুয়া একসঙ্গে ওই ঘরে থাকত। একজন নমাজ পড়তে যাওয়ার পর এই ঘটনা ঘটে। সামনেই পরীক্ষা ছিল, ফলে কোনও মানসিক চাপ বা ভয় কাজ করছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। পুলিশ মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধান করছে।"
পরীক্ষার মানসিক চাপ, নাকি অন্য কোনও কারণ, সব দিকই এখন পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সামনে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)