‘নর্দমা’ থেকে হঠাৎ ‘দেশের গর্ব ও শক্তি’! ভগবতের বার্তার পরই জেন জি প্রসঙ্গে উল্টো সুর কঙ্গনার

ঠিক আগের দিনই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat) অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছিলেন যে, নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলেই জেন জি বা তরুণ প্রজন্ম ‘দেশবিরোধী’ হয়ে যায় না। তারা আমাদেরই সন্তান এবং তাদের যুক্তিপূর্ণ দাবি শোনা উচিত। সংঘ প্রধানের এই তাৎপর্যপূর্ণ বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কঙ্গনাকে জেন জি-র প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায়।

Aug 07, 2026 - 18:45
0 0
‘নর্দমা’ থেকে হঠাৎ ‘দেশের গর্ব ও শক্তি’! ভগবতের বার্তার পরই জেন জি প্রসঙ্গে উল্টো সুর কঙ্গনার

আন্দোলনকারী তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন জি’ (Gen Z)-কে ‘জেনারেশন গাটার’ বা 'নর্দমা প্রজন্ম' বলে সম্বোধন করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)। তবে সেই কড়া সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে শুক্রবার হঠাৎই সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা গেল তাঁর গলায়। নতুন প্রজন্মকে এবার ‘দেশের শক্তি, গর্ব এবং ভারতীয় সংস্কৃতির দূত’ হিসেবে আখ্যা দিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ঠিক আগের দিনই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat) মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছিলেন যে, নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করলেই জেন জি বা তরুণ প্রজন্ম ‘দেশবিরোধী’ হয়ে যায় না। তারা আমাদেরই সন্তান এবং তাদের যুক্তিপূর্ণ দাবি শোনা উচিত।

সংঘ প্রধানের এই তাৎপর্যপূর্ণ বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কঙ্গনাকে জেন জি-র প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায়।

কঙ্গনা বলেন, "জেন জি হল আমাদের দেশের আসল শক্তি এবং এক অর্থে আমাদের জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ। আমাদের তরুণ সমাজ যে ক্রমেই ভারতের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে উঠছে, এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।"

নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলাকালীন কিছু তরুণীর আচরণকে আক্রমণ করে কঙ্গনা একটি বিতর্কিত পোস্ট করেছিলেন। সেখানে তিনি স্বাধীন জীবনযাপন করতে চাওয়া আধুনিক তরুণীদের একাংশকে ‘'নর্দমা প্রজন্ম' বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি ছিল, উপার্জন না করে শুধুমাত্র পশ্চিমা সংস্কৃতি অনুকরণ করতে চাওয়াই এই প্রজন্মের স্বভাব।

মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা শুরু হলে কঙ্গনা জানান, তাঁর বক্তব্য ছিল মূলত সেই আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে, যারা অনৈতিক আচরণ করছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করছে। তরুণ প্রজন্মের শৃঙ্খলার উপর জোর দেওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।

তরুণ ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে কঙ্গনার পূর্ববর্তী মন্তব্যটি চরম বিতর্ক তৈরি করেছিল। বিরোধী দলগুলির পাশাপাশি স্বয়ং শাসক শিবিরের অন্দরেও সেই মন্তব্যের বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল।  নিজের করা বিতর্কিত মন্তব্যের পর আবার ফ্রেন্ডশিপ ডে-তে জেন-জি তরুণীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং "Peace Out" বার্তা দিয়ে জলঘোলা কমানোর চেষ্টাও করেন অভিনেত্রী-সাংসদ কঙ্গনা রানাউত।

তবে আরএসএস প্রধানের ইতিবাচক বার্তার পর কঙ্গনার এই ১৮০ ডিগ্রি অবস্থান বদল রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User