ফের মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন! জটিল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত মুসিয়ালা, কী এই 'অ্যাবসেন্স সিজার'?
মাঠে পরপর দু'বার জ্ঞান হারানোর পর নিজের অসুস্থতা নিয়ে মুখ খুললেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা জামাল মুসিয়ালা। 'অ্যাবসেন্স সিজার'-এ আক্রান্ত তিনি। জানুন বিস্তারিত।
খেলার মাঠে আচমকা পতন। চারদিনের মধ্যে পরপর দু'বার। স্বভাবতই তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে ফুটবল মহলে। অবশেষে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালা (Jamal Musiala)। জানালেন, তিনি 'অ্যাবসেন্স সিজার' (Absence Seizures) নামক এক স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত। তবে চিকিৎসা চলছে পুরোদমে। এখন সুস্থ।
মাঠে জোড়া পতন ও আতঙ্ক
গত শনিবার আরবি লাইপজিগের বিরুদ্ধে প্রাক-মরসুম ফ্রেন্ডলি ম্যাচ। খেলার শেষলগ্নে হঠাৎই মাথা ঘুরে পড়ে যান মুসিয়ালা। সতীর্থ ইসমাইল সাইবারি দ্রুত তাঁকে ধরে বসান। পরে মেডিক্যাল টিমের সাহায্যে নিজেই হেঁটে মাঠ ছাড়েন জার্মান তারকা।
উদ্বেগ কাটতে না কাটতে চারদিন পর মঙ্গলবার হাইডেনহাইমের বিরুদ্ধে ফের বিপত্তি। ৪-২ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন। কিন্তু নামার কিছুক্ষণ পরেই ফের জ্ঞান হারান বছর তেইশের তরুণ। দু'দলের খেলোয়াড়রা তাঁকে ঘিরে ধরেন। তড়িঘড়ি ছুটে আসেন চিকিৎসকরা। পরপর দু'বার এমন ঘটনা রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করেছে বাভারিয়া শিবিরে (Bayern Munich)।
কী এই 'অ্যাবসেন্স সিজার'?
চিকিৎসা পরিভাষায় এটি একধরনের স্নায়বিক সমস্যা। মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক তরঙ্গে ব্যাঘাত ঘটলে এমনটা হয়। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি হঠাৎ ৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য চৈতন্য হারান। চোখের পলক পড়া বন্ধ হয়ে যায়। মনে হয় যেন তিনি শূন্যে তাকিয়ে আছেন।
সাধারণত শিশুদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও তা ঘটতে পারে। এই রোগে বড় কোনও শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। কিন্তু দৌড়ানো বা ফুটবল খেলার মতো দ্রুতগতির কাজের সময় সংজ্ঞা হারালে আঘাতের তীব্র ঝুঁকি থাকে। আশার কথা, এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
অনুরাগীদের উদ্দেশে মুসিয়ালার বার্তা
ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ এক পোস্টে অনুরাগীদের আশ্বস্ত করেছেন জার্মান তারকা (German Footballer)। লিখেছেন, 'প্রথমেই বলি, আমি ভাল আছি! আপনাদের বার্তা এবং সমর্থনের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। জানি অনেকেই চিন্তিত। আজ সেই দুশ্চিন্তা দূর করে আসল পরিস্থিতি জানাতে চাই।'
নিজের রোগ সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট স্বীকারোক্তি, 'আমার ছোট, অস্থায়ী, কিন্তু নিরাময়যোগ্য অ্যাবসেন্স সিজার ধরা পড়েছে। স্নায়বিক সমস্যার কারণেই এটা হচ্ছে। এর ফলে লাইপজিগ এবং হাইডেনহাইমের ম্যাচে ওই ঘটনাগুলো ঘটেছে।'
মাঠে ফেরার লড়াই ও জেদ
মুসিয়ালার মতে, বিষয়গুলি বাইরে থেকে ভয়ংকর লাগলেও, আপাতত এটাই তাঁর জীবনের অংশ। মুসিয়ালার বক্তব্য, 'আমি দারুণ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছি। পুরোপুরি আশাবাদী।' স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের ছাড়পত্র নিয়েই স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। তাঁর জেদ, ফুটবল চালিয়ে যাওয়ার। তরুণ প্রতিভা আরও লেখেন, 'স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের ছাড়পত্র পেয়েছি। যেটা আমার দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করবে, আমি সেটাই করতে চাই। আর সেটা হল স্বাভাবিক জীবনযাপন করা এবং ফুটবল খেলার প্রতি নিজের আবেগ বাঁচিয়ে রাখা।'
বায়ার্নের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ম্যাক্স এবার্লও স্বস্তির সুর শুনিয়েছেন। তাঁর কথায়, 'ও এখন ভাল আছে। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর বাইরে আপাতত কিছু বলার নেই।' উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে (FIFA Club World Cup) পিএসজি গোলরক্ষক দোনারুমার সঙ্গে সংঘর্ষে গোড়ালিতে মারাত্মক চোট পেয়েছিলেন মুসিয়ালা। সেই ধাক্কা সামলে ছাব্বিশের বিশ্বকাপে (World Cup 2026) জার্মানির হয়ে দুরন্ত ফুটবল খেলেছেন।
উজ্জ্বল কেরিয়ারে জিতেছেন ছ'টি বুন্দেসলিগা ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। এবার এই নতুন স্নায়ুরোগকেও অনায়াসে ড্রিবল করে এগিয়ে যেতে উন্মুখ মুসিয়ালা।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)