মেয়ের পড়ার খরচের জন্য শাড়ি পরে খালি পায়ে ম্যারাথন জয়, দামি জুতো পরা তরুণদের পিছনে ফেললেন সহজেই

পরনে শাড়ি, পায়ে হাওয়াই চটি। দৌড়তে গিয়ে চটি খুলে হাতে নিয়ে খালি পায়েই দামি জুতো পরা প্রতিযোগীদের পিছনে ফেললেন ৪৭ বছরের রামাবাঈ। মেয়ের পড়াশোনার জন্য জিতলেন ম্যারাথন।

Sep 02, 2026 - 18:58
0 0
মেয়ের পড়ার খরচের জন্য শাড়ি পরে খালি পায়ে ম্যারাথন জয়, দামি জুতো পরা তরুণদের পিছনে ফেললেন সহজেই

পরনে সাধারণ সুতির শাড়ি। পায়ে হাওয়াই চটি। বয়স ৪৭। প্রতিযোগীদের দীর্ঘ তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন নিতান্তই সাধারণ একজন হিসেবে। কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি এই মহিলাই শেষে বাজিমাত করবেন। দামি ট্র্যাকসুট আর ব্র্যান্ডেড স্পোর্টস শু পরা ফিট তরুণ-তরুণীদের পিছনে ফেলে শেষপর্যন্ত ম্যারাথন (Marathon) জিতবেন তিনি। আর এই অসাধ্য সাধন তিনি করলেন শুধুমাত্র নিজের মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে। মহারাষ্ট্রের বিড জেলার আম্বাজোগাইয়ের বাসিন্দা রামাবাঈ রণবীর। তাঁর এই হার না মানা জেদ আর মাতৃসত্তার লড়াই এখন গোটা দেশের কাছে অনুপ্রেরণা।

শাড়ি পরে ট্র্যাকে দৌড়

ভারতীয় শিক্ষণ প্রসারক সংস্থার খোলেশ্বর এডুকেশনাল কমপ্লেক্স। তাদের অমৃত মহোৎসব উদযাপনের অংশ হিসেবেই আয়োজিত হয়েছিল 'অমৃত দৌড়' (Amrit Daud)। আম্বাজোগাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ চক থেকে শুরু হয় এই প্রবল প্রতিযোগিতামূলক দৌড়। গন্তব্য ছিল ভাগ্যনগর চক। স্থানীয় বহু যুবক-যুবতী এই দৌড়ে প্রবল উৎসাহ নিয়ে অংশ নেন। তাঁদের পরনে ছিল কেতাদুরস্ত দৌড়োনোর পোশাক। আধুনিকতার ভিড়ে একেবারেই বেমানান ছিলেন রামাবাঈ। আটপৌরে শাড়ি আর সাধারণ চটি পায়ে ট্র্যাকে নামেন তিনি। বয়সের ভার বা পোশাকের অস্বস্তি, কোনও কিছুই তাঁর প্রবল জেদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

বাধা পেরিয়ে খালি পায়েই জয়

হুইসেল বাজতেই শুরু হয় দৌড়। রামাবাঈও ছোটেন। কিন্তু কিছুদূর যেতেই বিপত্তি। পায়ের চটি বারবার পিছলে যাচ্ছিল। গতি কমছিল তাঁর। কিন্তু মাঝপথে থামার পাত্রী নন তিনি। এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে পা থেকে চটি জোড়া খুলে ফেলেন। জুতো হাতে নিয়েই ফের শুরু করেন দৌড়। এবড়োখেবড়ো রাস্তা। রাস্তায় ছড়ানো ছোটবড় পাথর। তার উপর শাড়ি সামলানোর তুমুল ঝক্কি। সব বাধা পায়ে দলিয়ে খালি পায়েই দৌড়তে থাকেন তিনি। লক্ষ্য একদম স্থির। ফিনিশিং লাইন পার হতে হবে। তাঁর এই অদম্য জেদের কাছে হার মানেন কেডস পরা তরুণ প্রতিযোগীরা (Viral News)। সবাইকে অবাক করে দিয়ে সবার আগে ফিনিশিং লাইন পার হন এই ৪৭ বছরের প্রৌঢ়া।

পুরস্কারের টাকা মেয়ের শিক্ষায়

প্রথম হয়ে ম্যারাথন জেতায় মিলেছে নগদ আর্থিক পুরস্কার। টাকার অঙ্ক খুব একটা বড় নয়। মাত্র ৩,০০০ টাকা। কিন্তু রামাবাঈয়ের (Ramabai Ranveer) কাছে এই অর্থের মূল্য অনেক। এই টাকা তিনি নিজের কোনও ব্যক্তিগত শখে ওড়াবেন না। সম্পূর্ণ অর্থই তিনি খরচ করবেন তাঁর মেয়ের আগামী দিনের পড়াশোনার জন্য। এই কথা জানার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আয়োজক থেকে শুরু করে উপস্থিত দর্শকরাও। এক মায়ের এমন নিঃস্বার্থ লড়াই ও সন্তানের শিক্ষার প্রতি এমন কঠিন দায়বদ্ধতা স্বতঃস্ফূর্ত কুর্নিশ আদায় করে নিয়েছে সবার। জেদ আর আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনও কঠিন বাধাই টপকে যাওয়া যায়, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন মহারাষ্ট্রের এই লড়াকু মা।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User