সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানের ত্রাস হয়ে উঠেছিল 'এস-৪০০', অবস্থান জানতে সক্রিয় করা হয়েছিল স্লিপার সেল

তিনি খোলসা করেন যে, সংঘাতের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ভারতে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিগুলির সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানার জন্য মারাত্মক মরিয়া হয়ে উঠেছিল। বিদেশি স্যাটেলাইট সহায়তার (যার মধ্যে চিন রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছিল) পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরে থাকা নিজেদের গোপন স্লিপার সেল ও গুপ্তচরদের সক্রিয় করে তুলেছিল পাকিস্তান।

Aug 28, 2026 - 10:47
0 0
সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানের ত্রাস হয়ে উঠেছিল 'এস-৪০০', অবস্থান জানতে সক্রিয় করা হয়েছিল স্লিপার সেল

 পহেলগাম সন্ত্রাসবাদী হামলায় (Pahalgam Attack) ২৫ জন পর্যটকের মৃত্যুর বদলা নিতে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) অভিযান করেছিল। সেই অভিযানের মূল কাণ্ডারী হিসেবে উঠে এসেছিল 'এস-৪০০' (S-400) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। ২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত এই সংঘাতের সময় পাকিস্তানের বিমান বাহিনীকে কীভাবে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন তথ্য প্রকাশ করলেন তৎকালীন ওয়েস্টার্ন এয়ার কমান্ডের প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র।

এক সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্তা জানান, ভারতের 'সুদর্শন চক্র' নামে পরিচিত রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ভয়ে পাকিস্তানি ফাইটার জেটগুলি ভারতীয় সীমান্তের ২০০ কিলোমিটারের মধ্যেও ঘেঁষার সাহস পায়নি। তিনি খোলসা করেন যে, সংঘাতের সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ভারতে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিগুলির সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানার জন্য মারাত্মক মরিয়া হয়ে উঠেছিল। বিদেশি স্যাটেলাইট সহায়তার (যার মধ্যে চিন রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছিল) পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরে থাকা নিজেদের গোপন স্লিপার সেল ও গুপ্তচরদের সক্রিয় করে তুলেছিল পাকিস্তান।

এয়ার মার্শালের কথায়, "পাকিস্তানের বিমান আকাশে উড়লেই তা এস-৪০০-এর রাডারে ধরা পড়ত এবং ধ্বংস করা হত। পাকিস্তানের জন্য এটি ছিল সবচেয়ে বড় আতঙ্ক।" ভারত সরকারের দেওয়া পূর্ণ সামরিক স্বাধীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের তরফ থেকে কোনও কড়াকড়ি ছিল না, শুধুমাত্র সাধারণ নাগরিকদের প্রাণহানি এড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

অপারেশন চলাকালীন পাকিস্তানের ব়্যাডার ও কমান্ড সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিবরণ তুলে ধরে প্রাক্তন এয়ার মার্শাল জানান, মে মাসের শুরুতে জইশ ও লস্করের ৯টি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করার পর পাকিস্তান প্রতিশোধ হিসেবে শত শত ড্রোন ও মিসাইল ছাড়ে। ৯ মে তাদের একটি ড্রোন বিমান ঘাঁটির হাসপাতালে আছড়ে পড়লে ভারতের এক বিমানকর্মী শহিদ হন। এরপরেই ভারত কঠোর জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রথমে পাকিস্তানের গ্রাউন্ড-বেসড রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল করে তাদের ‘অন্ধ’ করে দেওয়া হয়। এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তান তাদের এডাব্লিউএসিএস (AWACS) নজরদারি বিমান আকাশে ওড়ালে ৩১৪ কিলোমিটার দূরে থাকা অবস্থাতেই ভারতের এস-৪০০ দিয়ে তা গুলি করে নামানো হয়। এটি বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে সারফেস-টু-এয়ার (মাটি থেকে আকাশ) মিসাইলে দীর্ঘতম দূরত্বের বিমান ধ্বংসের নতুন রেকর্ড গড়ে।

এই নজিরবিহীন সাফল্যের পর ১০ মে ভারত নূরে খান ও ভোলারি-সহ পাকিস্তানের ১১টি বড় সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা বিধ্বংসী আঘাত হানে। পরিস্থিতি পুরোপুরি ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির জন্য আর্জি জানাতে বাধ্য হয়।

সাক্ষাৎকারে জিতেন্দ্র মিশ্র আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরে জানান, এই অপারেশনে ভারতীয় নারী ফাইটার পাইলটরা অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা একাধারে মুরিদকেতে লস্কর-ই-তৈবার প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছেন এবং একই সঙ্গে পরবর্তী মিশনে পাকিস্তানের কমান্ড সেন্টার ও বিমানঘাঁটিতে নিখুঁত এয়ার স্ট্রাইক পরিচালনা করেছেন।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User