নেপালে হড়পা বানে খোঁজ মিলছে না প্রায় ১০৫ ভারতীয়র, যাচ্ছিলেন কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে
বিপর্যয়ের ভয়াবহতা (Nepal Flood) ছড়িয়ে পড়েছে বহু দূরে। জলপ্রবাহের টান ও ধসে নিখোঁজ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক, যাঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন (105 Missing Indians)।
নেপালে হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) প্লাবিত একাধিক গ্রাম, ধসে তলিয়ে গিয়েছে রাস্তা ও সেতু। নূয়াকোট এবং ধাদিং জেলা থেকে এ পর্যন্ত অন্তত আট জনের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা (Nepal Flood) ছড়িয়ে পড়েছে বহু দূরে। জলপ্রবাহের টান ও ধসে নিখোঁজ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক, যাঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন (105 Missing Indians)।
পর্যটক ও নিরাপত্তা কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার তালিকা
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বন্যাকবলিত অঞ্চল থেকে নিখোঁজ ৩৮৪ জনের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক (Nepal News) রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় বড় অংশই ভারতীয়। এ দিকে রসুয়া জেলায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ দিতে গিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দল নিজেরাই বিপদে পড়েছে। অন্তত ২৬ জন নেপাল পুলিশ কর্মী এবং আর্মড পুলিশ ফোর্সের (এপিএফ) ৭ জন জওয়ানের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাকে ময়দানে নামানো হয়েছে। আকাশপথে নজরদারি ও নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপাল সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ও বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে।
বিপর্য্যস্ত জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামো
উজান থেকে নেমে আসা জলরাশি নেপালের পাহাড়ি এলাকার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে ছারখার করে দিয়েছে। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ) জানিয়েছে, বানের ধাক্কায় তাদের অন্তত ছয়টি প্রধান জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সাবস্টেশন মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলির তালিকায় রয়েছে—
- রসুওয়াগড়ি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প
- চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র
- ত্রিশূলী ৩এ
- ত্রিশূলী ৩বি হাব ২২০ কেভি সাবস্টেশন
- ত্রিশূলী হাইড্রো পাওয়ার স্টেশন
- দেবীঘাট হাইড্রো পাওয়ার স্টেশন
বিদ্যুৎ উৎপাদন, বণ্টন ও সঞ্চালন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় বিশাল অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভূমিধস ও জল জমার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক জাতীয় সড়ক।
জরুরি বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর, নেপথ্যে আবহাওয়া পরিবর্তন
নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ডিআইজি অবিনারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপর্যয়ের গভীরতা পর্যালোচনা করতে 'ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি'-র জরুরি বৈঠক ডেকেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। সামাজিক মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জানান, রেড ক্রস, স্কাউট এবং বিশেষ চিকিৎসক দলকে সমন্বিত ভাবে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বর্ষায় প্রতি বছরই বন্যা ও ধসে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। তবে পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের অতিপ্রাকৃতিক দুর্যোগ ও হড়পা বানের মাত্রা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)