রেলকে বিকল্প জায়গা জানাতে হবে! হকার উচ্ছেদ মামলায় বিরাট নির্দেশ দিল হাইকোর্ট
বুলডোজার চালিয়ে স্টেশনে-স্টেশনে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল একাধিক হকারের দোকান। রুটি-রুজি হারানোর আশঙ্কায় রেলের এই আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন দীঘদিন ধরে ব্যবসা করা হকাররা।
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিগত কয়েক দিন ধরেই রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন রেল স্টেশনে বেআইনি দখলদারি হটাতে (Hawker Eviction Drive) ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছিল। বুলডোজার চালিয়ে স্টেশনে-স্টেশনে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল একাধিক হকারের দোকান। রুটি-রুজি হারানোর আশঙ্কায় রেলের এই আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন দীঘদিন ধরে ব্যবসা করা হকাররা।
বুধবার (১৭ জুন) উচ্চ আদালতে বালিগঞ্জ, যাদবপুর, বনগাঁ-সহ ২৫টি রেল স্টেশনের হকার উচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার সামগ্রিক শুনানি ছিল। সেখানেই হকারদের বড়সড় স্বস্তি দিয়ে আগামী ৩১ জুন পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল আদালত।
বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, ৩১ জুন পর্যন্ত যে সমস্ত হকারদের চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের এই মুহূর্তে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যাবে না। একই সঙ্গে আদালত সাফ জানিয়েছে, উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষকে বিতর্কিত জায়গাগুলি সশরীরে পরিদর্শন (Physical Verification) করতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
রেল কর্তৃপক্ষের বুলডোজার নীতির বিরুদ্ধে বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গানগর, মথুরাপুর ও যাদবপুর-সহ রাজ্যের মোট ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনের হকাররা আদালতের শরণাপন্ন হন। হকার ও মামলাকারীদের পক্ষে আদালতে জোরালো সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং আইনজীবী ফিরদৌস শামিম। তাঁদের যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই এদিন রেলের একতরফা পদক্ষেপের ওপর রাশ টানে হাইকোর্ট। স্পষ্ট নির্দেশ, ৩১ জুন পর্যন্ত উচ্ছেদ করা যাবে না হকারদের।
শুনানি পর্বে রেলের জমি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার আইনি দিক নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য। জানিয়েছেন, রেল কর্তৃপক্ষ এর আগে যাঁদের স্টেশন চত্বরে বসার বা ব্যবসা করার বৈধ অনুমতি দিয়েছিল, তাঁদের উচ্ছেদ করার ক্ষেত্রে আগামী দিনে রেলকে বাধ্যতামূলকভাবে সুনির্দিষ্ট আইনি নোটিস দিয়ে আগে থেকে জানাতে হবে। হকারদের উচ্ছেদ করার আগে তাঁদের জন্য কোনও বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা যায় কিনা, সেই পুনর্বাসনের বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষকে সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং তা আদালতকে জানাতে হবে।
আদালতের শুনানিতে মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “যেভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাতে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। কোনও কারণ না দেখিয়ে জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।” পাল্টা বিচারপতির প্রশ্ন ছিল - রেলের জায়গা বা প্ল্যাটফর্ম যদি দখল করে দোকান বসে, সেক্ষেত্রে রেল কি তাদের তুলতে পারে না?
যদিও দাবি করা হয়, রেলের লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে এখন এই উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। কোনও জায়গায় স্টেশন থেকে দূরে বসলেও তুলে দেওয়া হচ্ছে হকারদের। এই পরিপ্রেক্ষিতে রেলের আইনজীবীর সওয়াল, ১৮৮১ সালে তাঁদের ওই জমি কিনে নেওয়ার ন্যূনতম দাম জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত কেউ জমা দেয়নি! যদিও সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতির নির্দেশ, ৩১ জুন পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)