'বই লিখি, চাইলে নিজেই লাইব্রেরি বানিয়ে দিতে পারি', বিধানসভার বই ‘চুরি’র অভিযোগ উঠতেই সরব মমতা
বিধানসভার গ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে বইগুলির বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তরফে জানানো হয়, বইগুলি বাড়িতে বা তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে নেই। সেগুলি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট চেম্বারেই রাখা রয়েছে।
সবার আগে খবর করেছিল দ্য ওয়াল। সেই বিধানসভার বই ইস্যু নিয়ে শুক্রবার মুখ খুললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ উঠেছে, তাঁর নেওয়া বেশ কিছু বই এখনও ‘ফেরত’ আসেনি বিধানসভার গ্রন্থাগারে (Bidhansabha Library)। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) শুক্রবার ক্যাথিড্রাল রোডে আয়োজিত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের সমাবেশ থেকে বলেন, প্রমাণ ছাড়া কোনও অভিযোগ করা উচিত নয়।
বিধানসভা সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে মোট ১৯টি বই ইস্যু করা রয়েছে। তার মধ্যে ১৮টি রবীন্দ্র রচনাবলীর বিভিন্ন খণ্ড। অন্য বইটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সঞ্চয়িতা’। গ্রন্থাগারের নথি বলছে, এই ১৯টি বইয়ের কোনওটিই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত আসেনি। এই নিয়েও এদিন মমতা বলেন, ''আমি নিজে বই লিখি। চাইলে নিজেই লাইব্রেরি বানিয়ে দিতে পারি। তাই প্রমাণ ছাড়া কোনও অভিযোগ করবেন না।''
বিধানসভার গ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে বইগুলির বিষয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তরফে জানানো হয়, বইগুলি বাড়িতে বা তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহে নেই। সেগুলি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট চেম্বারেই রাখা রয়েছে।
কিন্তু সমস্যা হল, বইগুলি চেম্বারে থাকলেও গ্রন্থাগারের খাতায় এখনও ‘ফেরত’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। ফলে বইগুলি বর্তমানে ঠিক কোথায় এবং কী অবস্থায় রয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন গ্রন্থাগারের কর্মীরা।
তবে বিধানসভা থেকে বই নিয়ে সকলেই যে ফেরত দেননি, তা নয়। এক গ্রন্থাগার কর্মী সদ্যপ্রয়াত প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা জানিয়েছেন। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরেই আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার গ্রন্থাগারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পরে তাঁর এক সহযোগী এসে আশিসের নামে ইস্যু হওয়া বইগুলি গ্রন্থাগারে ফেরত দিয়ে যান।
গ্রন্থাগারের কর্মীদের মতে, কোনও জনপ্রতিনিধির মেয়াদ বা দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরে তাঁর নামে ইস্যু হওয়া বইগুলি এভাবে ফেরত দেওয়া হলে হিসাব রাখা অনেক সহজ হয়। একই সঙ্গে মূল্যবান বই ও নথি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে না।
একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ইস্যু হওয়া ১৯টি বই এখনও গ্রন্থাগারের খাতায় ‘ফেরত’ হয়নি, অন্যদিকে সরকার পরিবর্তনের পরেই উদ্যোগ নিয়ে বই জমা দিয়েছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় - দু’টি ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই বিধানসভার অন্দরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)