বিশ্বকাপ ফাইনালে হার, আট দিন পরে বাবার মৃত্যু! মেসির জীবনের নিষ্ঠুরতম এক মাস
বিশ্বকাপ ফাইনালে হার, তারপর বাবার মৃত্যু। লিওনেল মেসির জীবনের সবচেয়ে নিষ্ঠুর একটা মাসের আড়ালের গল্প, আরোইয়ো সেকো থেকে রোজারিও হয়ে মায়ামি পর্যন্ত।
ঠান্ডা হাওয়া। জুলাইয়েই আর্জেন্তিনাজুড়ে (Argentina) তীব্র শীত। আরোইয়ো সেকোয় বাতাস বয়ে আসছে পারানা নদী থেকে। চতুর্থ ডিভিশনের সাদামাটা একটি ম্যাচ। গ্যালারিতে হাজারখানেক দর্শক। আন্তোনিও দি জিয়াকোমো স্টেডিয়ামে খেলছে লিওনেস—লিওনেল মেসির (Lionel Messi) নিজের গড়া ক্লাব। প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাই মাতিয়াস। প্রতিপক্ষ সেন্ট্রাল কর্দোবা। তাদের একজনের জার্সিতে লেখা 'মেসি', নম্বর ১০।
নাম জোয়াকিন। আসল মেসির সঙ্গে কোনও রক্তের সম্পর্ক নেই। তবু গ্যালারি চিৎকার করছে—'মে-সি! মে-সি!' চোখ অবশ্য মাঠে নেই। হুডি চাপানো একটা মুখের দিকে, গ্যালারিতে বসা।
বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হয়েছে সপ্তাহখানেক আগে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অতিরিক্ত সময়ে স্পেনের কাছে ১-০ পরাস্ত আর্জেন্তিনা। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মহার্ঘ মঞ্চ ছেড়ে মেসি নিজের মানুষদের সান্নিধ্যে। বাড়ি থেকে চল্লিশ মিনিটের পথ। ইউটিউবে সেই ম্যাচ দেখছেন ৭৭৫ জন—ফক্সের বিশ্বকাপ ফাইনাল সম্প্রচারের দর্শকসংখ্যার চেয়ে প্রায় তিন কোটি সত্তর লক্ষ কম।
ঠান্ডা তাড়াতে মাতে খাচ্ছেন মেসি। দল হেরে গেল সে দিনও। স্কোরলাইন: ২-০। শেষ বাঁশি বাজতেই সই দেওয়া শুরু। জার্সি, খাতা এগিয়ে আসছে একের পর এক। কালো গাড়িতে চড়ে ফিরলেন ফুনেসের বাড়িতে।
লাল গালিচা, যেখানে মেসি ছিলেন না
রোজারিও পেরোনোর সময় শেষ হচ্ছিল আরেকটা ম্যাচ। মেসির ছেলেবেলার টিম নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ নেমেছিল তাইয়েরেসের বিরুদ্ধে। বছরখানেক আগে ক্লাব তাদের দক্ষিণ স্ট্যান্ডের নাম পালটে রেখেছিল 'লিওনেল মেসি স্ট্যান্ড'। সম্মান তো বটেই, একটু লোভও—তখনও ইন্টার মায়ামিতে (Inter Miami) ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত করেননি মেসি। ফলাফল যাই হোক, ভালবাসা টলেনি। ব্যানারে লেখা—‘ধন্যবাদ সেলেকসিওন, আর্জেন্তিনার মানুষকে একজোট করার জন্য!’
দলের বাকিরা ফিরেছিলেন লাল গালিচায়। বুয়েনস আইরেসগামী বিমানের ল্যাজে আঁকা ১০ নম্বর। বাজনায় বাজল 'মুচাচোস' গান। মেসি সেই বিমানে ছিলেন না। প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের এক্সে জাতীয় ছুটির ঘোষণা। স্পেনকে হারালে নিজের প্রাসাদ কাসা রোসাদা উৎসবের জন্য ছেড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন। কোনওটারই প্রয়োজন পড়েনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে গেলেন শুধু কোচ লিওনেল স্কালোনি। বললেন, 'ড্রেসিংরুমে ইতিমধ্যে কেঁদে ভাসিয়েছি।' তিনবার থামলেন বলতে গিয়ে, কান্না চাপতে। জানালেন, ম্যাচের পর মেসির সঙ্গে কথাই হয়নি। জানেন না, এটাই তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ কিনা। যোগ করলেন, 'আশা করি সবাই ওকে নিয়ে গর্বিত বোধ করবে। কারণ ও-ই ফুটবল মাঠে পা রাখা সর্বকালের সেরা।'
মেসির প্রথম প্রতিক্রিয়া এল ইনস্টাগ্রামে। ফাইনালের আগের রাতে লিখেছিলেন, 'কাল যাই হোক, এই দল এমন একটা গল্প লিখে ফেলেছে যা আমরা ভুলব না, কেউ মুছতেও পারবে না।' পরদিন সুর বদলাল। 'ব্যথাটা এত বড়, এই ক্ষত সারাতে সময় লাগবে।' চার বছর আগেও একবার ফাইনাল হেরেছিলেন, জার্মানির কাছে। অভিজ্ঞতা এবার কষ্ট কমায়নি। তবু ভাল স্মৃতিও কম নয়। উঠে এল—কানসাস সিটির আসাদো, আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক, মিরোস্লাভ ক্লোজের বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড ভাঙা, মিশর আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নকআউটে ঘুরে দাঁড়ানো।
ফাইনালে যা সত্যিই ঘটেছিল
এএফএ প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়ার দাবি, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আটলান্টার সেমিফাইনালটাই আসলে ফাইনালের চেয়ে বেশি চাপের ছিল। ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের আবেগ জড়িয়ে সেই ম্যাচে। জেতাটা তাঁর ভাষায় 'আরেকটা বিশ্বকাপ জেতার মতোই'।
ফাইনালে স্পেন ছিল স্রেফ ভাল দল। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কথায়, ‘ওদের গোলরক্ষক এমি মার্তিনেজ না থাকলে ব্যবধানটা আরও বড় হতে পারত।’ মেসি সারাক্ষণ খেলায় ঢুকতে পারেননি। মার্ক কুকুরেয়াকে লাল কার্ড দেখানোর আবদার থেকেই হতাশাটা স্পষ্ট। সতীর্থরাও ব্যর্থ। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্ন্দান্দেজকে লাল কার্ড কার্যত ম্যাচ শেষ করে দেয়। মোজা টেনে ঠিক করতে গিয়ে জিউলিয়ানো সিমিওনে ফেরান তোরেসকে মার্কিংয়ে ভুলে যান—একমাত্র গোলটা আসে সেখান থেকেই। রেফারির শেষ বাঁশির পর হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ!
তাপিয়া রেগে বলেছিলেন, 'মনে হচ্ছে কিছু মানুষ বিরক্ত, যে আর্জেন্তিনা বারবার জিততে থাকে। ওদের আসল সমস্যা, আর্জেন্তিনার মানুষ খুশি হচ্ছে।'
কাতারে ছবিটা ছিল উলটো। কোয়ার্টার ফাইনালে সতীর্থ পারেদেস নেদারল্যান্ডসের ডাগআউটে বল মেরে ঝামেলা বাঁধিয়েছিলেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় মেসির বিখ্যাত সেই মুহূর্ত—‘কী দেখছ, বোকা?’ চার বছর পরে একই ধরনের ঘটনা দেখা হল অন্যভাবে। দীর্ঘ তদন্তের পর ফিফা (FIFA) নিষেধাজ্ঞা দিল। সবচেয়ে কঠিন পারেদেসের—১০ ম্যাচ ব্যান, ৯০ হাজার ডলার জরিমানা। এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরা আর গাভিকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার শাস্তি।
'ভিআরজেন্তিনা' তকমাও জ্বালিয়েছে দলকে গোটা টুর্নামেন্টজুড়ে। অভিযোগ, আলজেরিয়া আর মিশরের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব পেয়েই ফাইনালে পৌঁছেছে আর্জেন্তিনা। রদ্রিগো ডি পল ফেটে পড়লেন এক্সে। লিখলেন, 'আজ দেখছি কতজন এই হারটা চেয়েছিল। গোটা বিশ্বকাপ জুড়ে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়েছে, শুধু নিজেদের কষ্ট কমাতে। ওদের গায়ে জ্বালা ধরায় আমাদের হাসি। এটা শুধু প্রমাণ করল, জার্সির প্রতি ভালোবাসা সবকিছু জয় করতে পারে... দীর্ঘদিন কষ্ট দেবে এটা। কিন্তু আজ, যেকোনো দিনের চেয়ে বেশি, গর্বিত যে আমি আর্জেন্তাইন।'
কিছু রহস্যও রয়ে গেল। ড্রেসিংরুম থেকে বেরোনোর সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ল, সতীর্থদের সব ভুলে যেতে বলছেন মেসি। কী ভুলতে বলছিলেন, স্পষ্ট নয়। ওয়ার্মআপে টানা পাঁচটা ফ্রি-কিক মিস করলেন। দিনটা তাঁর ছিল না, বোঝাই যাচ্ছিল।
প্রেসিডেন্ট মিলেই ফাইনালে গেলেন না। কুসংস্কার? নাকি তাপিয়ার সঙ্গে টানাপোড়েন? প্রথম একাদশ নিয়েও প্রশ্ন উঠল। গোটা টুর্নামেন্টে একবারও শুরুর একাদশে না থাকা নিকো গনজালেস কেন সিমিওনের জায়গায়? ম্যাচের মধ্যেই চোট পেলেন দুই সেন্টার-ব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, পরে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোও। বদল করতে বাধ্য হলেন স্কালোনি, যা চাননি। গোল দরকার যখন, সুইজারল্যান্ড আর ইংল্যান্ড ম্যাচে সুপার-সাব হিসেবে ভরসা দেওয়া লাউতারো মার্তিনেজকে বেঞ্চেই রাখলেন। ক্লান্তির যুক্তি অনেকের কাছে যথেষ্ট মনে হয়নি। ভেতরে ভেতরে অন্য কিছু ঘটেছিল কি, প্রশ্ন উঠল সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রমাণ ছাড়াই!
যে কারণ লুকিয়ে ছিল
ছয় সপ্তাহ শরীর-মনে ভীষণ ক্লান্তিকর গিয়েছে, এটুকু নিশ্চিত। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম গোল করে কেঁদে ফেলেছিলেন মেসি। বলেছিলেন, 'কিছু কঠিন দিন গেছে। কিন্তু গোটা দলকে ধন্যবাদ, ওরা সবসময় পাশে থেকে শক্তি জুগিয়েছে।'
আসল কারণ প্রকাশ্যে এল অন্যভাবে। মেসির বাবা জর্জ অসুস্থ ছিলেন। পরিবার বিষয়টা গোপন রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু আর্জেন্তিনার এক টিভি ব্যক্তিত্ব ফ্লোরেন্সিয়া পেনিয়া লুজু টিভিতে ভুল করে দাবি করে বসেন, জর্জ মারা গেছেন। এতে প্রবল প্রতিক্রিয়া হল। বিষয়টা পৌঁছল রাষ্ট্রীয় স্তরেও। মিলেই এক্সে লিখলেন, 'মিডিয়া থেকে সব দেখে ফেলেছি ভাবলেই কেউ না কেউ মনে করিয়ে দেয়, আরও নিচে নামা সম্ভব, আরও জঘন্য কিছু বলা সম্ভব, আরও ক্ষতি করা সম্ভব।' মেসি পরিবারের বিবৃতি এল সংক্ষিপ্ত—'দায়িত্ববোধ, বিচক্ষণতা আর মানবিকতা' চেয়ে।
উনচল্লিশ বছর বয়সে এভাবে খেলার তাগিদ কোথা থেকে পান মেসি? উত্তর লুকিয়ে রোজারিওর যুব ক্লাব গ্রান্দোলিতে। ছোট্ট মেসিকে সেখানে কোচিং করাতেন যিনি, নিজের সব ছেড়ে বার্সেলোনায় পাড়ি দিয়েছিলেন—যাতে ছেলেটার চিকিৎসা হয়, স্বপ্নপূরণ হয়… সেই মানুষটাই জর্জ!
মেসি পরে বললেন, 'প্রতিটা ম্যাচ শেষে তোমার মেসেজের অপেক্ষা করতাম, মিস করতাম। তখনই বুঝেছিলাম পরিস্থিতি সত্যিই খারাপ। তবু যতদূর সম্ভব যাওয়ার কথাই ভাবছিলাম, যাতে তুমি সময় পাও একটা ম্যাচ দেখার। ফাইনালে পৌঁছেও তুমি থাকতে পারলে না। জিততে চেয়েছিলাম, যাতে ট্রফিটা তোমার কাছে নিয়ে যেতে পারি, আরেকটা কাপ দেখাতে পারি। পারলাম না। পা আর চলল না। শারীরিক সীমা ডিঙাতে চেয়েছিলাম, পারিনি। কখনওই ঠিকঠাক অনুভব করতে পারিনি।'
আরোইয়ো সেকোর সেই ম্যাচে মেসি গিয়েছিলেন বাবাকে দেখতেই। বললেন, 'ফিরে যখন দেখলাম তুমি ভেবেছ পেনাল্টিতে ফাইনাল হেরেছি, তখনই বুঝলাম কতটা কঠিন সময় যাচ্ছে তোমার। যা হয়েছিল তা নিয়ে কথাই বলতে পারিনি। কোনওকিছু উপভোগ করতে পারোনি তুমি। শিরোপা জিতিনি ঠিকই, কিন্তু জানো না প্রতিটা ম্যাচ কতটা উপভোগ করেছি আমরা। আবারও তুমিই ঠিক ছিলে—আমার সেখানে থাকা উচিত ছিল, খেলা উচিত ছিল।'
মাঠে ফেরা, তারপর সেই ফোন
ফিফা আর ফিফপ্রোর (FIFPro) নিয়ম বলছে, মরসুম শেষে খেলোয়াড়দের তিন সপ্তাহ বাধ্যতামূলক বিশ্রাম প্রাপ্য। অথচ মেসি ফিরলেন মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে। ১ আগস্ট কলম্বাস ক্রুর বিরুদ্ধে বদলি হিসেবে নামলেন মায়ামির হয়ে।
ফোর্ট লডারডেলের অনুশীলন মাঠে অপেক্ষায় নতুন সতীর্থ কাসেমিরো। ম্যান ইউনাইটেড ছাড়ার পর ইতালি আর ব্রাজিলের প্রস্তাব ফিরিয়ে বেছে নিয়েছিলেন মেসির সঙ্গে খেলা। বললেন, 'সত্যি বলতে, প্রতিটা খেলোয়াড় স্বপ্ন দেখে সর্বকালের সেরার সঙ্গে খেলার। তাই সন্দেহ নেই, আমি এখন স্বপ্নের মধ্যে বাস করছি। উপভোগ করতে চাই। ওকে জিততে সাহায্য করতে চাই, কারণ ও একজন বিজয়ী।'
দুঃখজনকভাবে বেশিদিন লাগল না রোজারিওয় ফিরে যেতে। পরাজিত নায়কের এবারের প্রত্যাবর্তন শেষকৃত্যের জন্য। স্থানীয় হাসপাতালের বিবৃতি নিশ্চিত করল, ৮ আগস্ট শনিবার ভোর দুটোয় ৬৮ বছর বয়সে মারা গিয়েছেন জর্জ। সেই রাতে মন্তেররের বিরুদ্ধে লিগস কাপ ম্যাচ শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করে মায়ামি। ডি পল গোল করে জার্সি খুলে দেখালেন ভেতরে আরেকটা জার্সি—পিঠে লেখা ‘মেসি, ১০’!
আর্জেন্তাইন ফুটবল একজোট হল। নিউয়েলস সবার আগে শ্রদ্ধা জানাল। বোকা জুনিয়র্সের বম্বোনেরায়, দেশজুড়ে অন্য মাঠেও সংহতির ব্যানার উঠল। এটা স্রেফ কৃতজ্ঞতাপ্রকাশ নয়। আর্জেন্তাইন পরিচয়ের অনেকটাই জড়িয়ে ফুটবলে। প্রাচীন গ্রিসের পুরাণে ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের যে সম্পর্ক, আর্জেন্তিনার কাছে ফুটবল অনেকটা তেমনই। শুধু তাদের দেবতারা—দি স্তেফানো, মারাদোনা, মেসি—বল পায়ে খেলেন। যাঁদের একজনকে পৃথিবীতে আনার কারিগর ছিলেন জর্জ।
যন্ত্রণা নিয়েই এগিয়ে চলা
ব্যক্তিগত শেষকৃত্যের পরে বাড়তি ছুটি নেননি মেসি। কয়েকদিনের মধ্যেই মাঠে। ১২ আগস্ট লিগস কাপে লেওনের বিরুদ্ধে বিরতির পর নামলেন, দল হারল ৩-২। তিনদিন পরে এমএলএসে (MLS) ন্যাশভিলের বিরুদ্ধে শুরুর একাদশে। বিশ্বকাপে পেনাল্টি নষ্টের ধারা টানলেন এখানেও। দল হারল ৪-১।
এরপর এক উত্তপ্ত ম্যাচে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের কুইন সালিভানকে চড় মারার জন্য এমএলএসের জরিমানার মুখে, ২-২ ড্র হওয়া সেই লড়াইয়ে। সপ্তাহান্তে গোলে ফিরলেন ঠিকই, কিন্তু সেটা নিছক সান্ত্বনাসূচক—ঘরের মাঠে টরন্টোর কাছে ২-১ হারল মায়ামি। কোচ গিয়ের্মো হয়োস বললেন, 'লিওর পরিস্থিতিটা ধীরে ধীরে সামলাতে হবে, কারণ ভেতরে অনেক ব্যথা জমে আছে। এটা একদিনে হওয়ার বিষয় নয়। তাই মনে হয় নীরবতা, শান্তি—এগুলোই এখন ভাল। নিজের মতো সময় খুঁজে নিক ও।' ফেরার পর থেকে এমএলএসে একটাও জেতেনি মায়ামি। ন্যাশভিলের চেয়ে দশ পয়েন্ট পিছিয়ে টেবিলে।
ফুটবল মাঠের হারের চেয়েও এখন অনেক বড় ক্ষতি সামলাচ্ছেন মেসি। বাবাকে নিয়ে বিবৃতিতে লিখেছেন, 'তোমাকে ছাড়া কী করব জানি না, কীভাবে এগব জানি না। সারাজীবন শুধু ফুটবলই খেলেছি, এখন সন্দেহ হচ্ছে আর কতদিন চালিয়ে যাব। শুরু থেকে পাশে ছিলে, শেষের এত কাছে পৌঁছেও গিয়েছিলাম। আর একটু কেন অপেক্ষা করলে না, যাতে একসঙ্গে শেষ করতে পারতাম?'
গত অক্টোবরে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মায়ামির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছিলেন আট বারের ব্যালন ডি'অর জয়ী তারকা। তখনও নির্মীয়মাণ স্টেডিয়ামের আখরোট কাঠের টেবিলে সই করার সময় হেসেছিলেন। সেই হাসি এবার ফিরতে সময় লাগবে।
আর্জেন্তিনা এখনও পরের আন্তর্জাতিক বিরতির জন্য কোনো প্রীতি ম্যাচ ঘোষণা করেনি। ডিসেম্বরে চুক্তি শেষ হচ্ছে স্কালোনির। নবীকরণ করবেন কিনা, অনিশ্চিত। তাপিয়া বলেছেন, 'আমার প্ল্যান এ, প্ল্যান বি, প্ল্যান সি—সবই স্কালোনি।' মেসি কী সিদ্ধান্ত নেন, কোচ নিজে কি তার অপেক্ষাতেই আছেন?
তাপিয়া অবশ্য বলছেন, 'ওকে একা ছেড়ে দিতে হবে। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছিল লিও, সেটা উপভোগ করা উচিত সবার। এই দলের, এই বিশ্বকাপের তাবিজ ছিল ও। আমার মতে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ও। আগের মতো একই তাগিদ অনুভব করতে হবে ওকে।'
প্রশ্নটা এই গ্রীষ্মেই জোরালো হয়েছিল—লিওকে মাঠে দেখার আনন্দ আর কতদিন পাব আমরা? উত্তরটা এখন অপ্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে, যা তিনি সইছেন তার সামনে। নিষ্ঠুর একটা গ্রীষ্ম গেল মেসির। একজন ডিফেন্ডারও যা কখনো দিতে পারে না, দুনিয়া এখন সেটাই দিতে পারে তাঁকে—সময়, আর একটু জায়গা।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)