শৈশবে বড় ছেলের মৃত্যু, স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ! শেষ জীবনে গোয়ার বাড়িতে একাই থাকতেন নানা পাটেকর

প্রয়াত প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর। শৈশবে প্রথম সন্তানের মৃত্যু থেকে বৈবাহিক বিচ্ছেদ— ব্যক্তিজীবনের একাধিক কঠিন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে যেভাবে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় সিনেমার মহীরুহ।

Oct 08, 2026 - 11:23
0 0

প্রয়াত প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকর। বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার বাড়িতে গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দেওয়া হয়েছিল। সকাল ৫টা ২০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মণিপাল হাসপাতালের অঙ্কোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকর জানিয়েছেন, টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর দেওয়ার পরেও অভিনেতাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনায় মেডিকো-লিগ্যাল কেস নথিভুক্ত হয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হবে।

‘গমন’ থেকে ‘পরিন্দা’, অভিনয়ে স্বতন্ত্র পরিচয়

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে সিনেমায় পা রাখেন নানা পাটেকর। হিন্দি ও মারাঠি—দুই ভাষার ছবিতেই নিজের অভিনয়ের আলাদা জায়গা তৈরি করেন। ‘পরিন্দা’, ‘অঙ্গার’, ‘তিরঙ্গা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘শক্তি’, ‘অপহরণ’, ‘রাজনীতি’—একাধিক ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।

‘পরিন্দা’ ছবির জন্য ১৯৯০ সালে সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। ‘ক্রান্তিবীর’-এর জন্য ১৯৯৫ সালে সেরা অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার এবং ‘অগ্নিসাক্ষী’-র জন্য ১৯৯৭ সালে ফের সেরা পার্শ্ব অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার পান। তাঁর ঝুলিতে ছিল চারটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও।

‘নটসম্রাট’ থেকে ‘ওয়েলকাম’

মারাঠি থিয়েটার ও সিনেমার সঙ্গেও গভীর যোগ ছিল তাঁর। ‘নটসম্রাট’-এ গণপতরাও বেলওয়ালকরের চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। অন্যদিকে ‘ওয়েলকাম’ ছবিতে উদয় শেট্টির চরিত্রে অভিনয় করে কমেডিতেও নিজের দাপট দেখিয়েছিলেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা ও লেখালিখিতে যুক্ত ছিলেন নানা। ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ ছবিটি পরিচালনা করেন দক্ষভাবে। ২০১৩ সালে পান ‘পদ্মশ্রী’।

স্ত্রী নীলকান্তী, ছেলে মালহার

১৯৭৮ সালে নীলকান্তী পাটেকরকে বিয়ে করেছিলেন নানা। পরবর্তীতে দু’জনে আলাদা থাকতেন। তাঁদের ছেলে মালহার পাটেকর বাবার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে একাধিক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে অভিনেতাকে। শৈশবেই তাঁর বড় ছেলে দুর্বাসের মৃত্যু হয়। বাবাকে হারিয়েছিলেন মাত্র ২৮ বছরে। পরবর্তী সময়ে নানা একাধিক সাক্ষাৎকারে তাঁর পরিবার এবং জীবনে নীলকান্তীর অবদানের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন।

পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর কখনও তীব্র, কখনও সংবেদনশীল, কখনও বা সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজের চরিত্রে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে হিন্দি ও মারাঠি—দুই চলচ্চিত্র জগতেই বড় শূন্যতা তৈরি হল।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User