স্কুলের সময়েই জনগণনা, হাইকোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, ছুটির দিনে ডিউটির নোটিস প্রত্যাহার রাজ্যের
স্কুলের পঠনপাঠন বজায় রেখে সপ্তাহান্তে শিক্ষকদের জনগণনা বা সেন্সাসের কাজে যোগ দেওয়ার নোটিস দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু কেন্দ্র ও রাজ্যের দৃষ্টিভঙ্গির অমিল এবং আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সেন্সাস বোর্ডের সংশোধিত নির্দেশিকা এবং আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষকদের কাজের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
সপ্তাহান্তে নয়, স্কুল চলাকালীন বা স্বাভাবিক কর্মদিবসেই সম্পন্ন করতে হবে জনগণনার কাজ। সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের ছুটির দিনে অর্থাৎ শনি ও রবিবার জনগণনার ডিউটি দেওয়ার পুরনো সিদ্ধান্ত থেকে শেষ পর্যন্ত পিছু হঠল রাজ্য সরকার। কলকাতা হাইকোর্টে রাজ্য জানিয়েছে, শিক্ষকদের সপ্তাহান্তে জনগণনার কাজে পাঠানোর যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।
মূলত, সরকারি শিক্ষকদের সপ্তাহের কাজের পাশাপাশি সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনগুলিতে সেন্সাসের কাজে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। মামলার শুনানিতে রাজ্য ও কেন্দ্রের অবস্থানের মধ্যে চরম সমন্বয়ের অভাব দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত।
রাজ্যের যুক্ত ছিল, পঠনপাঠন ও স্কুলের নিয়মিত কাজকর্ম ব্যাহত না করতেই সপ্তাহান্তে শিক্ষকদের দিয়ে জনগণনার কাজ করানো যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু উল্টো সুর শোনা যায় কেন্দ্রের গলায়। কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, সেন্সাসের কাজের জন্য শিক্ষকদের স্কুল চলাকালীন সপ্তাহের সাধারণ কর্মদিবসেই ব্যবহার করা উচিত।
রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সংস্থার দুই বিপরীতধর্মী অবস্থানের কারণে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করলে আগের জারি করা নোটিসটি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় রাজ্য প্রশাসন।
বিকাশ ভবন (স্কুল শিক্ষা অধিকর্তার দফতর) থেকে প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তিতেও জানানো হয়েছে, ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনের স্বার্থ যাতে কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করেই স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরকে শিক্ষকদের জনগণনার কাজে ব্যবহারের আর্জি জানানো হয়েছে। ফলে গত ৩ অগস্ট জারি করা নির্দেশিকাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে শিক্ষকরা সেন্সাসের কাজ থেকে পুরোপুরি রেহাই পেলেন। শিক্ষকদের কীভাবে এবং কখন জনগণনার দায়িত্ব দেওয়া হবে, তার নতুন সময়সূচি ও দিকনির্দেশ ঠিক করবে সেন্সাস বোর্ড (Census Board)।
হাইকোর্ট এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি আপাতত মুলতুবি রেখেছে। সেন্সাস বোর্ডের কাছ থেকে সংশোধিত সময়সূচি এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত নতুন গাইডলাইন আসার পরই আদালত পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টি বিবেচনা করবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)