গতি বাড়ল ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনের কাজে, ২০২৭-এ চালু হতে পারে দেশের প্রথম হাইস্পিড রেল
থানের শীলফাটা থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র-গুজরাট সীমান্তের জারোলি গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ১৩৫.৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি দীর্ঘ এলিভেটেড সেকশনে বর্তমানে দিন-রাত কাজ চলছে। এই দীর্ঘ রুটের মধ্যে প্রায় ১২৪.০২৭ কিলোমিটার অংশ জুড়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল আকৃতির ভায়াডাক্ট এবং বৃহদাকার উড়াল সেতু।
ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন (Bullet Train) নির্মাণের কাজ এখন একেবারে যুদ্ধের তৎপরতায় এগিয়ে চলেছে। মুম্বই-আমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডরের (MAHSR) মহারাষ্ট্র অংশে - বিশেষ করে থানে এবং পালঘর জেলায় সমুদ্র সমতল, বন্ধুর পাহাড়ি উপত্যকা, বিস্তৃত নদী অববাহিকা এবং ব্যস্ত জাতীয় সড়ক পেরিয়ে পরিকাঠামো তৈরির কাজ এখন পুরো দমে চলছে। ভৌগোলিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং চ্যালেঞ্জিং এই অংশে একের পর এক আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে রেল ট্র্যাক ও এলিভেটেড করিডর নির্মাণের কাজ দ্রুতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
থানের শীলফাটা থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্র-গুজরাট সীমান্তের জারোলি গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ১৩৫.৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি দীর্ঘ এলিভেটেড সেকশনে বর্তমানে দিন-রাত কাজ চলছে। এই দীর্ঘ রুটের মধ্যে প্রায় ১২৪.০২৭ কিলোমিটার অংশ জুড়ে তৈরি হচ্ছে বিশাল আকৃতির ভায়াডাক্ট এবং বৃহদাকার উড়াল সেতু। মূলত আধুনিক হাই-স্পিড রেল ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও গতি বজায় রাখতেই মাটির ওপর দিয়ে এলিভেটেড পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের চলাচল ও এলাকার যান চলাচলে যাতে কোনও ব্যঘাত না ঘটে, সে বিষয়টিও সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের এই বিশেষ অংশে মোট তিনটি বিশ্বমানের এলিভেটেড রেল স্টেশন গড়ে তোলা হচ্ছে - থানে, ভিরার এবং বোইসর। এর মধ্যে থানে স্টেশনটির বিশেষ পরিকাঠামো মাটি থেকে প্রায় ১২ মিটার উচ্চতায় তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে অত্যাধুনিক যাত্রী পরিষেবা, স্বয়ংক্রিয় টিকিট ব্যবস্থা এবং সংযোগকারী পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে। শুধু সমতল বা উঁচু সেতু নির্মাণই নয়, একই সঙ্গে পাহাড়ি রুটের টানেলগুলির ভিতরে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ওয়াটারপ্রুফিং এবং স্থায়ী লাইনিং বসানোর মতো জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলিও সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে। পুরো মহারাষ্ট্র অংশে মোট সাতটি পাহাড়ি সুড়ঙ্গ বা মাউন্টেন টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিকাঠামোগত সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে জাতীয় হাই-স্পিড রেল কর্পোরেশন জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই এই অঞ্চলে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পিয়ার বা পিলারের ওপরের প্রাথমিক ঢালাই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পিয়ার পরের ধাপের কাজের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া, পাহাড়ের পাশাপাশি এলাকার বড় বড় নদীগুলির ওপর বিশালাকার ব্রিজ নির্মাণ এই প্রকল্পের অন্যতম বড় আকর্ষণ হতে চলেছে।
উলহাস নদীর ওপর তৈরি হচ্ছে ৪৬০ মিটার দীর্ঘ একটি বিশেষ নদী সেতু। এর পাশাপাশি বৈতরণী নদীর ওপর গড়ে উঠছে ২.৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এক সুবিশাল সেতু এবং জজ্ঞানী নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ৫১০ মিটার দীর্ঘ আরেকটি ব্রিজ। সব মিলিয়ে মহারাষ্ট্রের পুরো সেকশনে নদী, দীর্ঘ পথ এবং রেললাইন অতিক্রম করার জন্য ১২টি বিশেষ স্টিল ব্রিজসহ মোট ৩৬টি বৃহৎ ক্রসিং নির্মাণ করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব অত্যন্ত আশাপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ভারতবাসী ২০২৭ সালের ১৫ অগস্ট, অর্থাৎ দেশের স্বাধীনতা দিবসেই উপহার পেতে পারেন দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন। রেল মন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো ৫০০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ মুম্বই-আমেদাবাদ করিডরটি একই সঙ্গে চালুর বদলে ধাপে ধাপে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে গুজরাটের সুরাট থেকে বিলিমোরা সেকশনটি যাত্রী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পরবর্তী ধাপে ভাপি থেকে সুরাট রুটটি যুক্ত হবে।
সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক এগোলে ২০২৯ সালের মধ্যে পুরো মুম্বই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন করিডরটি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। সর্বোচ্চ ৩২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে ছুটতে সক্ষম এই বিশেষ বুলেট ট্রেন চালুর ফলে মুম্বই এবং আমেদাবাদের মধ্যকার সুদীর্ঘ দূরত্ব পার করতে সময় লাগবে মাত্র ১ ঘণ্টা ৫৮ মিনিট। এতে বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ের সঙ্গে গুজরাটের শিল্পাঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও দ্রুত পরিবহন বিপ্লব ঘটবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)