দেশে কতজন ভিক্ষা করেন? আলাদা করে থাকবে না তথ্য, জনগণনার ইতিহাসে প্রথমবার কেন এই সিদ্ধান্ত?
কেন নতুন জনগণনায় আর প্রকাশ করা হবে না ভিখারিদের সংখ্যা? ইতিহাস বদলে স্বাধীনতার পর প্রথমবার উঠে যাচ্ছে ‘বেগার্স’ ক্যাটেগরি। সামাজিক ছুঁতমার্গ এড়াতে সরকারের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণ জানুন।
দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে জনগণনার কাজ। এনুমারেটর বা তথ্য সংগ্রহকারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে নাগরিকদের থেকে বিভিন্ন তথ্য জমা করছেন (India Census beggars category)। তবে এবার স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার আদমশুমারিতে বাদ পড়তে চলেছে একটি বিশেষ ক্যাটেগরি (beggars and vagrants category removed)। পরিসংখ্যান থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, নতুন এই জনগণনায় ভিখারিদের তথ্য আলাদাভাবে নথিভুক্ত বা উল্লেখ করা হবে না (India demographic census changes)।
বদল হচ্ছে ‘বেগার্স অ্যান্ড ভ্যাগ্রান্টস’ বিভাগ
শুরু থেকে শুরু করে ২০১১ সালের শেষ জনগণনা পর্যন্ত প্রশ্নপত্রে ‘বেগার্স অ্যান্ড ভ্যাগ্রান্টস’ (ভিক্ষুক ও ভবঘুরে) নামে একটি নির্দিষ্ট বিভাগ বজায় ছিল। যেসব ব্যক্তি কোনও আর্থিক লেনদেন বা স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং নিজেদের ভিখারি বলে পরিচয় দিতেন, তাঁদের এতদিন এই তালিকায় রাখা হত। তবে এবার সম্পূর্ণ উঠে যাচ্ছে সেই নিয়ম। ইতিহাসে এই প্রথমবার তাঁদের আলাদা গণনা না করে যুক্ত করা হচ্ছে ‘আদার্স’ বা ‘অন্যান্য’ শ্রেণিতে। এই নতুন বিভাগে শিক্ষার্থী, গৃহস্থালির কাজ সামলানো ব্যক্তি এবং অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের সঙ্গে একই বিভাগে রাখা হবে তাঁদের। ফলে নতুন তালিকায় আর স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে না ঠিক কতজন মানুষ ভিক্ষাবৃত্তিকে জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
কেন নেওয়া হল এমন সিদ্ধান্ত?
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেশজুড়ে মাত্র ৩.৮ লক্ষ মানুষ নিজেদের ভিখারি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। সমাজের একাংশের মতে, সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার ভয়ে অনেকেই প্রকৃতপক্ষে ভিক্ষাবৃত্তি করলেও নথিপত্রে তা স্বীকার করতে চান না। এই সামাজিক ছুঁতমার্গ ও অস্বস্তি কাটাতেই এবার তাঁদের উপার্জনহীন বা 'অন্যান্য' ক্যাটেগরির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফরম্যাটে ৪০টি প্রশ্নের তালিকা
এবারের জনগণনার তথ্য সংগ্রহ পর্বে নাগরিকদের মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রশ্নপত্রের মধ্যে মূল বিষয়গুলো হল-
ব্যক্তিগত ও সামাজিক তথ্য: ধর্মীয় পরিচয়, জাতিগত তথ্য (বিশেষত তফসিলি জাতি বা জনজাতিভুক্ত কি না), পরিবারের সদস্য সংখ্যা, লিঙ্গ, বৈবাহিক স্থিতি এবং কোভিড টিকা নেওয়া হয়েছে কি না।
বাসস্থান ও জীবনযাত্রা: বাড়ির নম্বর, মেঝে কী দিয়ে তৈরি, জ্বালানি, পানীয় জল, শৌচাগার, স্নানাগার ও পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা কেমন তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। খাদ্যশস্য ব্যবহারের ধরণও প্রশ্নের তালিকায় রয়েছে।
সম্পদ ও নথি: ইন্টারনেট সুবিধা, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, বাইক বা সাইকেল ব্যবহারের তথ্য। এছাড়া মোবাইল নম্বর, আধার, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এই নতুন কৌশল একদিকে যেমন তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক করবে, তেমনই সামাজিক অস্বস্তি এড়িয়ে সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)