পাঁশকুড়া হাসপাতালে রক্ত বিক্রির সিন্ডিকেট ফাঁস! এসিবি-র জালে তিন ল্যাব টেকনিশিয়ান

পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রক্ত বিক্রির এক বড়সড় চক্রের সন্ধান পেল অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো (ACB)। কিছুদিন আগে এক দালাল গ্রেফতারের পর তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, দালালদের সঙ্গে হাসপাতালের তিন ল্যাব টেকনিশিয়ানের আঁতাত ছিল। রক্তদান শিবির থেকে কম দামে বা বিনামূল্যে সংগৃহীত কার্ড ব্যবহার করে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত তুলে তা রোগীদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হতো। ইউপিআই-এর মাধ্যমে ল্যাব টেকনিশিয়ানদের অ্যাকাউন্টে হাজার হাজার টাকা লেনদেনের প্রমাণও মিলেছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে এসিবি।

Aug 25, 2026 - 19:27
0 0
পাঁশকুড়া হাসপাতালে রক্ত বিক্রির সিন্ডিকেট ফাঁস! এসিবি-র জালে তিন ল্যাব টেকনিশিয়ান

পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল (SSH)-এ বেআইনিভাবে রক্ত বিক্রির চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো (ACB)। হাসপাতালের রক্ত বিক্রি চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কিছুদিন আগেই রোগী ও তাঁদের পরিজনদের কাছে বেআইনিভাবে রক্ত বিক্রির অভিযোগে এক দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার সূত্র ধরেই তদন্তে নামে এসিবি। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত ওই দালালসহ আরও বেশ কয়েকজন দালালের সঙ্গে পাঁশকুড়া এসএসএইচ-এর ওই তিন ল্যাব টেকনিশিয়ানের একটি গভীর ও অনৈতিক আঁতাত ছিল।

তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দালালরা বিভিন্ন ক্লাব ও সংস্থার আয়োজিত রক্তদান শিবির থেকে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দিয়ে রক্তদাতার কার্ড কিনে আনত। এরপর সেই কার্ডগুলি ব্যবহার করে ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রক্ত সংগ্রহ করে নিত তারা।

সংগৃহীত সেই রক্তই অসহায় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ। তদন্তে জানা গিয়েছে, রোগীর পরিবারদের কাছ থেকে পাওয়া সেই অবৈধ টাকা দালাল এবং ল্যাব টেকনিশিয়ানদের মধ্যে নিয়মিত ভাগবাঁটোয়ারা হতো।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে যে, ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত সংগ্রহ করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ইউপিআই (UPI)-এর মাধ্যমে ওই তিন ল্যাব টেকনিশিয়ানের সঙ্গে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা লেনদেন করা হয়েছিল। এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত, এই চক্রের জাল ঠিক কতদূর বিস্তৃত এবং আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে অন্য কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে এসিবি।

কিছুদিন আগেই, রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে ফের গুরুত্বপূর্ণ রদবদল করে নবান্ন। রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগ (আইবি) থেকে তিন শীর্ষ আইপিএস আধিকারিককে সরাসরি দুর্নীতি দমন শাখা বা অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চে (ACB) ডেপুটেশনে পাঠানো হয়। দুর্নীতি দমন শাখার এডিজি (ADG) পদে আগে থেকেই দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন আইপিএস কে জয়রামন। নতুন দায়িত্বে দুর্নীতি দমন শাখায় যোগ দেন তিন হাই-প্রোফাইল আইপিএস আধিকারিক। আইপিএস মুরলীধর, আইপিএস আকাশ মাঘারিয়া এবং আইপিএস কামনাশিস সেন যোগ দেন এসিবি-তে। 

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User