সল্টলেক ক্যাম্পাসে যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে প্রথম বৈঠক, সব অভিযোগ খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিশন
কমিশনের কাজে কোনও ঢিলেমি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন চেয়ারম্যান। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত সম্পন্ন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হবে। তবে প্রাপ্ত নথির পরিমাণ এবং বক্তব্য জানাতে আসা ব্যক্তিদের সংখ্যার ওপর তদন্তের সার্বিক গতি নির্ভর করবে। সমস্ত অভিযোগ ও তথ্য জমা পড়ার পর তা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেই কমিশন তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) সাম্প্রতিক অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গঠিত তদন্ত কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়ে গেল বৃহস্পতিবার। তবে আন্দোলনের আবহ ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল যাদবপুর ক্যাম্পাসে (Jadavpur University Clash) না হয়ে সল্টলেক ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির একাংশ কমিশনে ছাত্র-প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার যে দাবি লাগাতার তুলে আসছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে এখনও পর্যন্ত সেই দাবি মানা হয়নি।
বৈঠকে অংশ নেওয়ার আগে কমিশনের চেয়ারম্যান তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের রূপরেখা স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, অভিযোগ ঠিক কার কার কাছ থেকে নেওয়া হবে এবং কী পদ্ধতিতে সংগৃহীত হবে, তা আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত করা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জমা দেওয়া সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বাইরের কোনও পক্ষ তথ্য প্রদান করতে চাইলে তাও সাদরে গ্রহণ করা হবে।
কমিশনের কাজে কোনও ঢিলেমি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন চেয়ারম্যান। তিনি জানান, যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত সম্পন্ন করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেষ্টা চালানো হবে। তবে প্রাপ্ত নথির পরিমাণ এবং বক্তব্য জানাতে আসা ব্যক্তিদের সংখ্যার ওপর তদন্তের সার্বিক গতি নির্ভর করবে। সমস্ত অভিযোগ ও তথ্য জমা পড়ার পর তা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেই কমিশন তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
এদিকে বৃহস্পতিবারই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) বারবার বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ এবং তার জেরে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। বহিরাগতদের দাপাদাপির কারণে সাধারণ পড়ুয়াদের পড়াশোনা ও শিক্ষা সংক্রান্ত স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে মামলাকারীর আইনজীবী হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আগামী সোমবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার জরুরি শুনানি গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার মামলাকারীর পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চে পুরো বিষয়টি উত্থাপন করে জরুরি ভিত্তিতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আর্জি জানানো হয়। শুনানিকালে অভিযোগ তোলা হয় যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো, পরিচয়পত্র পরীক্ষা এবং প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে হাইকোর্ট আগে একাধিক স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা সত্ত্বেও তা যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত বজায় রয়েছে।
একই সঙ্গে মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পূর্ববর্তী জনস্বার্থ মামলায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যে সমস্ত পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা আদালতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বাস্তবে সেই সমস্ত পদক্ষেপ বা ব্যবস্থায় মারাত্মক খামতি ও শিথিলতা রয়ে গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সোমবার এই শুনানিতে হাইকোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাজ্য পুলিশকে নতুন করে কী কড়া নির্দেশ দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে শিক্ষা মহল।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Wow
0
Sad
0
Angry
0
Comments (0)