এক টেকেই চার মিনিটের ‘ফুলের দোকান’! বুম্বাদা-শুভশ্রীর গানে কীভাবে তৈরি হল ‘ডাক্তার কাকু’র ম্যাজিক?

‘ডাক্তার কাকু’ ছবির গান ‘ফুলের দোকান’ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। মিষ্টি সুর, সহজ অথচ অনুভূতির কথা আর সঙ্গে ভালবাসার আবহে এ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দুর্নিবার সাহা। গানের সুরকার সৌপ্তিক মজুমদার ও সায়ন্তন সিনহা, গীতিকার সৌভিক চক্রবর্তী। তবে গানটির সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর শুটিং পদ্ধতিও আলাদা করে নজর কাড়ার মতো।

Sep 22, 2026 - 19:17
0 0

‘ডাক্তার কাকু’ ছবির গান ‘ফুলের দোকান’ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। মিষ্টি সুর, সহজ অথচ অনুভূতির কথা আর সঙ্গে ভালবাসার আবহে এ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দুর্নিবার সাহা। গানের সুরকার সৌপ্তিক মজুমদার ও সায়ন্তন সিনহা, গীতিকার সৌভিক চক্রবর্তী। তবে গানটির সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর শুটিং পদ্ধতিও আলাদা করে নজর কাড়ার মতো।  চার মিনিটের এই গানটি তৈরি হয়েছে একটানা শটে। আর সেই কঠিন কাজেই ক্যামেরার সামনে ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়।

পরিচালক পাভেলের কথায়, ‘ফুলের দোকান’ শুধু একটি গান নয়, ছবির টাইটেল সিকোয়েন্সেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গানটির জন্য কোরিওগ্রাফি করেছেন বিশাল ও প্রিয়াঙ্কা। সিনেমায় এটাই তাঁদের প্রথম কাজ। এত বড় একটি সিকোয়েন্স একটানা ক্যামেরায় ধরার জন্য প্রস্তুতিও ছিল যথেষ্ট দীর্ঘ। হাজরা বাড়িতে ছবির শুটিং হয়েছে, সেখানেই প্রায় চার থেকে দশ দিন ধরে কোরিওগ্রাফারদের সঙ্গে রিহার্সাল করেছিলেন পাভেলরা।

প্রথমে ঠিক করা হয়, বাড়ির কোন অংশ দিয়ে কীভাবে দৃশ্য এগোবে। কারণ গানটি কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় আটকে থাকবে না, গোটা বাড়িটাকেই সিকুয়েন্সের অংশ করে তুলতে হবে। সেই অনুযায়ী মোবাইল ফোনে পুরো কোরিওগ্রাফি রেকর্ড করে একটি ভিডিও তৈরি করা হয়। সেই ভিডিওই পরে প্রসেনজিৎ ও শুভশ্রীর কাছে পাঠানো হয়, যাতে তাঁরা আগে থেকেই নিজেদের মুভমেন্ট এবং পারফরম্যান্স বুঝে নিতে পারেন। সেই রিহার্সাল ভিডিও এখনও ইনস্টাগ্রামেও রয়েছে।

শুটিংয়ের আগে আরও একটি বড় প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। এত দীর্ঘ এবং জটিল একটি শট স্টেডিক্যাম ছাড়া করা কঠিন বুঝেই চেন্নাই থেকে বিশেষভাবে একজন স্টেডিক্যাম অপারেটরকে নিয়ে আসা হয়। অর্থাৎ, শুধুমাত্র এই গানটির শুটিংয়ের জন্যই বাইরে থেকে আনা হয়েছিল বিশেষ দক্ষতার একজন ক্যামেরা অপারেটর।

এরপর ফ্লোরে শুরু হয় আসল প্রস্তুতি। প্রথমে হয় হাঁটার রিহার্সাল। তার পর সঙ্গীতের সঙ্গে রিহার্সাল। এরপর ক্যামেরা নিয়ে রিহার্সাল। অর্থাৎ, অভিনেতাদের মুভমেন্ট, গান, ক্যামেরার গতি এবং পুরো বাড়ির মধ্যে তাঁদের যাতায়াত সবকিছু মিলিয়ে ধাপে ধাপে তৈরি করা হয়েছিল চার মিনিটের এই একটানা দৃশ্যটি।

পাভেল জানিয়েছেন, (daktarkaku)শেষ পর্যন্ত মূল শুটে দু’টি টেক নেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে একটি ছিল নিরাপদ রাখার জন্য নেওয়া সেফ টেক। কিন্তু প্রথম টেকটিই এত ভাল হয় যে সেটিকেই শেষ পর্যন্ত ছবিতে রাখা হয়েছে। পরিচালকও সেই টেকেই সন্তুষ্ট ছিলেন। তাঁর মতে, প্রসেনজিৎ ও শুভশ্রী (Prosenjit Chatterjee, Subhasree Ganguly) দু’জনেই এই কঠিন কাজটি অসাধারণভাবে সামলেছেন।

বিশেষ করে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অভিজ্ঞতা এই ধরনের শটে কতটা কাজে আসে, তা শুটিংয়ের সময় আরও একবার বোঝা গিয়েছে। পাভেলের কথায়, একটি মুহূর্তে শুভশ্রীর পা দরজায় সামান্য আটকে গিয়েছিল। কিন্তু প্রসেনজিৎ এত দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে তাঁর সঙ্গে মুভমেন্ট সামলে নেন যে দৃশ্যের স্বাভাবিকতা এক মুহূর্তের জন্যও নষ্ট হয়নি। দর্শক গানটি দেখলে সেই মুহূর্তে যে কোনও সমস্যা হয়েছিল, তা বোঝারও উপায় নেই।

এই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে পাভেল বলেছেন, এত বড় মাপের দুই শিল্পীকে নিয়ে এমন একটি সিকুয়েন্স তৈরি করতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা। তাঁর কাছে এই ধরনের কাজের আলাদা আনন্দ রয়েছে। কারণ শুধুমাত্র গান শুট করা নয়, পুরো বাড়ি, অভিনেতাদের মুভমেন্ট, ক্যামেরার চলন এবং সঙ্গীতকে একসঙ্গে মিলিয়ে একটি সম্পূর্ণ সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা তৈরি করাই ছিল উদ্দেশ্য।

শুধু পরিচালক নন, প্রসেনজিৎ ও শুভশ্রীও এই একটানা শট নিয়ে যথেষ্ট খুশি ছিলেন। বিশেষ করে প্রসেনজিৎ আগে থেকেই পাভেলকে বলেছিলেন, ক্যামেরার ফোকাস, আলো এবং পুরো সেটআপ যেন নিখুঁত থাকে। কারণ এত বড় একটি সিকুয়েন্স বারবার করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই রিহার্সাল থেকে শুরু করে ক্যামেরা সেটআপ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে গুরুত্ব দিয়ে এগোনো হয়েছিল।

আর শুভশ্রীর কথাতেও ধরা পড়েছে এই কাজের প্রতি তাঁর মজা ও আত্মবিশ্বাস। তিনি মজা করে বলেছিলেন, ‘রসগোল্লা’ ছবিতে বিশেষ উপস্থিতিতে দেখা দিয়েছিলেন, এবার ‘ডাক্তার কাকু’-তেও সেই অভিজ্ঞতা হল। তবে এর পরের ছবিতে তাঁকে যেন আর বিশেষ উপস্থিতিতে নয়, একেবারে প্রধান চরিত্রেই দেখা যায়, সেটাই তাঁর ইচ্ছে।

সব মিলিয়ে ‘ফুলের দোকান’ তাই শুধু একটি মিষ্টি প্রেমের গান হয়ে থাকছে না। প্রায় চার মিনিটের একটানা শট, একাধিক ধাপের রিহার্সাল, বিশেষ স্টেডিক্যাম সেটআপ এবং প্রসেনজিৎ-শুভশ্রীর নিখুঁত তালমিল এই গানটিকে ‘ডাক্তার কাকু’র অন্যতম অভিনব সিকুয়েন্সে পরিণত করেছে। কখনও কখনও পর্দায় কয়েক মিনিটের একটি দৃশ্য তৈরি করতে যে কত দিনের প্রস্তুতি, কতটা সমন্বয় আর কতখানি অভিজ্ঞতা লাগে, ‘ফুলের দোকান’ যেন তারই উদাহরণ।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User