মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল: ২৯ বছর পর সেই একই স্কোরলাইন ডার্বিতে, সেদিন নায়ক বাইচুং, এবার এডমুণ্ড

৯৭ সালে লাল-হলুদ জার্সিতে ইতিহাস লিখেছিলেন বাইচুং ভুটিয়া। ২৯ বছর পর সেই স্মৃতি ফিরিয়ে দিলেন এডমুণ্ড লালরিনডিকা। মোহনবাগানের একমাত্র গোলদাতা মনবীর সিং।

Aug 25, 2026 - 15:12
0 0
মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল: ২৯ বছর পর সেই একই স্কোরলাইন ডার্বিতে, সেদিন নায়ক বাইচুং, এবার এডমুণ্ড

তখন শ্রাবন মাস! ৯৭ সালে লাল-হলুদ জার্সিতে ইতিহাস লিখেছিলেন বাইচুং ভুটিয়া। ২৯ বছর পর সেই স্মৃতি ফিরিয়ে দিলেন এডমুণ্ড লালরিনডিকা।

রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে (Mohun Bagan vs East Bengal Durand cup 2026) মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করলেন এডমুণ্ড। লাল-হলুদের অন্য গোলটি বিপিন সিংয়ের। মোহনবাগানের একমাত্র গোলদাতা মনবীর সিং।

ডার্বির ইতিহাসে ৪-১ স্কোরলাইন শুনলেই বাঙালি ফুটবলপ্রেমীদের মনে পড়ে যায় ১৯৯৭ সালের ১৩ জুলাইয়ের কথা। আর মনে পড়ে যায়, অমল দত্তর ডায়মন্ড সিস্টেম ও পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোকাল টনিকের কথাও। সেদিন ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। যুবভারতীর গ্যালারিতে রেকর্ডসংখ্যক দর্শকের সামনে ইস্টবেঙ্গল জিতেছিল ৪-১ ব্যবধানে। গোলের সূচনা করেছিলেন নাজিমুল হক। বাকি তিনটি গোল করে ডার্বির চিরকালীন নায়ক হয়ে যান বাইচুং।

২০২৬ সালের ডুরান্ড ফাইনালেও প্রায় একই চিত্রনাট্য। এবার ইস্টবেঙ্গলের প্রথম গোলটি করেন বিপিন। ১০ মিনিটে তাঁর গোলে এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। দু’মিনিটের মধ্যেই ব্যবধান বাড়ান এডমুণ্ড। ২২ মিনিটে মোহনবাগান রক্ষণ এবং গোলকিপার বিশাল কাইথকে কাটিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।

৩৩ মিনিটে মনবীর একটি গোল শোধ করায় মোহনবাগানের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে সেই আশা শেষ করে দেন এডমুণ্ড। ৪৪ মিনিটে জয় গুপ্তের বাড়ানো বল থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। প্রথমার্ধেই স্কোরলাইন হয়ে যায় ৪-১।

দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল বেশি থাকলেও ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি মোহনবাগান। সাহাল আবদুল সামাদ, কিয়ান নাসিরিদের নামিয়েও ব্যবধান কমানো যায়নি। বরং প্রতি-আক্রমণ থেকে আরও গোলের সুযোগ পেয়েছিল লাল-হলুদ।

১৯৯৭ সালের সেই ম্যাচে মোহনবাগান কোচ অমল দত্তের ‘ডায়মন্ড’ ছক ভেঙে দিয়েছিলেন পিকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাইচুংরা। ২৯ বছর পর আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাসের কৌশলের সামনে অসহায় দেখাল মোহনবাগানকে।

দুই ম্যাচ, একই মাঠ, একই প্রতিপক্ষ, একই ৪-১ ফল এবং ইস্টবেঙ্গলের এক ফুটবলারের হ্যাটট্রিক—ইতিহাস যেন ফিরে এল পূর্ণ বৃত্তে। তখন নায়ক ছিলেন ‘পাহাড়ি বিছে’ বাইচুং। এবার ডার্বির নতুন রূপকথা লিখলেন এডমুণ্ড।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Wow Wow 0
Sad Sad 0
Angry Angry 0

Comments (0)

User